জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে গবেষণাভিত্তিক সংগঠন “জাহাঙ্গীনগর বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সোসাইটি” কর্তৃক আয়োজিত “জেউআরএস রিসার্চ সামিট অ্যান্ড ফ্রেশারস রিসিপশন ২০২৫” অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
৫ জুলাই শনিবার “From Curiosity to Discovery : Empowering Undergraduate Research” প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এবং সর্বমোট ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫০ জনেরও অধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে জাহাঙ্গীরনগর সিনেট ভবনে আয়োজিত এই ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠানটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সংস্কৃতি গড়ে তুলতে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
অনুষ্ঠানটির সূচনালগ্নে সংগঠনের সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা মো. আল আমিন বিজয় তার বক্তব্যের মাধ্যমে সংগঠনটির যাত্রা, দর্শন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তুলে ধরেন। পরবর্তীতে সংগঠনটির উপদেষ্টা ড. মো. মোয়াজ্জেম হোসাইন, গবেষণার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ সৃষ্টি এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণা সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা বিষয় তুলে ধরেন।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন পাবলিক হেলথ এন্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের সভাপতি এবং সহযোগী অধ্যাপক ড. সাখোয়াত হোসেন। তিনি তার বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ কালচারের গুরুত্ব তুলে ধরেন। বক্তব্য রাখেন ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবং সংগঠনের উপদেষ্টা অধ্যাপক খন্দকার হাসান মাহমুদ।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. এম. মাহফুজুর রহমান। তিনি তার বক্তব্যে গবেষণার বিভিন্ন ধাপ, উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি, গবেষণা পদ্ধতির পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন “ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে একাডেমিক উৎকর্ষতার পাশাপাশি গবেষণার বিস্তার ও গভীরতার উপর।”
একপর্যায়ে গবেষণার ক্ষেত্রে জাহাঙ্গীরনগকে এক অন্যতম মাত্রায় নিয়ে যেতে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন জার্নাল অ্যাক্সেস, রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠা ও গ্রন্থাগার আধুনিকায়নের প্রতিশ্রুতিও প্রদান করেন তিনি।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আইসিডিডিআরবি এর প্রোজেক্ট কো-অর্ডিনেটর ডা. মাহবুবুর রহমান এবং এসোসিয়েট সায়েন্টিস্ট মাহবুব উল আলম। এছাড়াও ডোবে ইন্টারন্যাশনাল-এর সিইও তার বক্তব্যে গবেষণার মাধ্যমে ডেটা-ভিত্তিক নীতিনির্ধারণ ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তুলে ধরেন।
সংগঠনটির আরেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, “গবেষণা শুধু একাডেমিক কাজ নয়, সমাজের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা প্রকাশের একটি পথও বটে। আরও বক্তব্য রাখেন এমসি ড্রিমার ইউএস-এর ম্যানেজার মো. মোশাররফ হোসেন এবং কি-নোট স্পিকার হিসেবে ছিলেন জন হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত পিএইচডি শিক্ষার্থী মো. সাইফুল ইসলাম।
বক্তারা গবেষণার বিভিন্ন ধাপ, গবেষণা নৈতিকতা, স্কিল ডেভেলপমেন্ট, এসওপি, ইমেইল রাইটিং কৌশল ও উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সম্যক দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানটির মূল আকর্ষণ ছিল কুইজ কম্পিটিশন, বিভিন্ন পর্বে আয়োজিত গবেষণা প্রস্তাব উপস্থাপন ও শিক্ষার্থীদের দ্বারা চমৎকার সর পোস্টারের প্রদর্শনী। কুইজ সেগমেন্টে জুনিয়র ক্যাটেগরিতে যথাক্রমে ১ম, ২য় এবং ৩য় স্থান অধিকৃত করেন মেহেদী হাসান আফ্রাদ (জাবি), এস. এম. মাসুদ আলম (জাবি) ও আফসানা হেনা (বিউপি)।
অন্যদিকে, সিনিয়র ক্যাটাগরিতে ১ম স্থান অধিকৃত করেন মো. জাহিদ হাসান (জাবি)। আনায়া তালুকদার (সাস্ট) ও শান্তু কর্মকার (জাবি) যথাক্রমে ২য় ও ৩য় স্থান অর্জন করেন।
পোস্টার প্রেজেন্টেশন প্রদর্শনীতে ১ম স্থান অর্জন করেন মো. নাইমুর রহমান খান সিফাত (ইউনিভার্সিটি অফ এশিয়া প্যাসিফিক) এবং ২য় ও ৩য় স্থান অর্জন করেন যথাক্রমে তাসমিয়া রহমান (জাবি) এবং সামিঊর রহমান (জাবি)।
সর্বশেষ গবেষণা প্রস্তাব উপস্থাপনে ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান অর্জন করেন যথাক্রমে মারুফ হাসান (হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়), সাব্বির হোসেন (জাবি) ও সুমন্ত বিশ্বাস (বুয়েট)।
সমাপনী বক্তব্যে জেইউআরএস-এর সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান ইমন এবং সভাপতি মো. আল আমিন বিজয় সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও গবেষণায় তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানান।
গবেষণার প্রতি আগ্রহ ও সুযোগ পেলে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরাও আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছাতে সক্ষম ‘‘জেউআরএস রিসার্চ সামিট অ্যান্ড ফ্রেশারস রিসিপশন ২০২৫’’ সেই বার্তাই প্রদান করে এবং আজকের এই রিসার্চ সামিট একাডেমীয়া এবং ইন্ডাস্ট্রির কোলাবোরেশানের দ্বার উন্মোচিত করলো।









