জয়পুরহাট প্রতিনিধি: দরবারে মাদক সেবনে বাধা দেয়ায় জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে এক ‘পীর’কে আটকে রেখে মারধর করে চুল-দাড়ি কেটে সাদা কাগজে জোরপূর্বক সাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমানে তিনি আহতাবস্থায় আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের জামালগঞ্জ এলাকায়।
আহত পীর সৈয়দ তানসেন আহম্মেদ ইউসুফ আল জাহাঙ্গীর (২৮) পাশ্ববর্তী নঁওগা জেলার বদলগাছী উপজেলার মিঠাপুর ইউনিয়য়ের গন্ধবপুর গ্রামের পাগলিনীর দরবার শরীফের পীর এবং ওই এলাকার আব্দুল বারির ছেলে।
আহত পীর, পীরের পরিবার ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দরবার শরীফের আনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে পীর ও একই এলাকার তার এক সহযোগী হেলাল মোটরসাইকেলযোগে বাজার করতে আসে আক্কেলপুর উপজেলার রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের জামালগঞ্জ বাজারে। পথিমধ্যে জামালগঞ্জ রেল স্টেশানের নিকটে পূর্ব থেকে অবস্থান করা কয়েকজন তাদের পথ অবরোধ জামালগঞ্জ পুরাতন হাসপাতাল নিয়ে গিয়ে মারধর করে। পরে জামালগঞ্জ রেল স্টেশনের নিকট এনে আবারও মারধর করে তার চুল-দাড়ি কেটে দেয়। এরপর সেখান থেকে তাকে নিয়ে বাজারের গোস্তহাটের সেটে নিয়ে আবারও মারধর করে ।
খবর পেয়ে বাড়ির লোকজন তাকে উদ্ধার করতে ছুটে আসেন এবং পীরকে তারা রুকিন্দীপুর ইউপি সদস্য শাহাদত এর ব্যক্তিগত অফিসে আহত অবস্থায় পান। সেখানে ইউপি সদস্য জোরপূর্বক ভয়ভীতি দেখিয়ে আহত পীর ও তার পিতাসহ আরও এক ব্যক্তির নিকট থেকে সাদা কাগজে সাক্ষর নিয়ে আনুমানিক বিকেল ৫টার দিকে তাদের ছেড়ে দেয়। পরে তাকে উদ্ধার করে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়।
এ ঘটনায় আহত পীরের বাবা ২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ১০/১২ জনের নামে আক্কেলপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
আহত পীর জানান, ‘বাজারে যাওয়ার পথে কিছু উগ্রবাদী ছেলে হামলা করে মারধর করে আমার চুল দাড়ি কেটে দেয়। পরে এক মেম্বার তার বাজরের অফিসে তাকে আটকে রেখে ভয় দেখিয়ে জোর করে সই নেয়।’
মারধরের কারণ জানতে চাললে আহত পীর বলেন, যারা তাদের মারধর করেছে তারা মাদকসেবী ছিল। তারা আমার দরবারে গিয়ে মাদক সেবন করে দরবারের পরিবেশ নষ্ট করত। আমি তাদের নিষেধ করায় তারা আমাকে মারধর করেছে।
আহত পীরের বাবা আব্দুল বারি বলেন,‘ আমার ছেলেকে মারধর করে মাথার চুল দাড়ি কেটে নিয়েছে ও আমাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জোর করে সাদা কাগজে সই নিয়েছে। আমি এর সুষ্ঠ বিচার চাই।’
এ বিষয়ে রুকিন্দীপুর ইউপি সদস্য শাহাদত এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ হলে তিনি জোরপূর্বক সই নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, এখানে সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে আপোষ করা হয়েছে।
আক্কেলপুর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ আব্দুল মালেক বলেন, এ ঘটনায় প্রথমিকভাবে মারধরের বিষয়টির সত্যতা মিলেছে। অভিযুক্তদের আটকের জন্য অভিযান চলমান রয়েছে।








