শাহরিয়ার নাজিম জয়, অভিনেতা হিসেবে শুরু করেছিলেন। শূন্য পরবর্তীতে ছোটপর্দায় শক্ত অবস্থানও তৈরি করেছিলেন। প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অভিনয় করতেন। পরে সিনেমা করেন। ওতটা সুবিধা করতে না পারায় ছন্দপতন ঘটেছিল তার।
পরে জয় শুরু করে উপস্থাপনা। ২০১৭ সালে ‘সেন্স অব হিউমার’ নামে একটি অনুষ্ঠানে উপস্থাপনার মাধ্যমে তুমুলভাবে আলোচিত হয়েছিলেন। তখন থেকে উপস্থাপক হিসেবে নতুন করে পরিচিতি অর্জন করেন। তবে জয় তার ভিতরে ভিতরে হারিয়ে যাওয়া অভিনয় সত্ত্বাকে ভীষণভাবে মিস করতেন।
অভিনেতা জয়কে টেনে তোলেন পরিচালক রায়হান রাফী। তার ‘সাত নম্বর ফ্লোর’ ওয়েব ফিল্মের মাধ্যমে দুর্দান্ত কামব্যাক করান। নতুন করে তিনি আবার আলোচনায় এসেছেন সদ্য মুক্তি পাওয়া শঙ্খদাশ গুপ্তের ওয়েব সিরিজ ‘গুটি’র মাধ্যমে। দুটি কাজ দিয়ে সেই চেনা অভিনেতা জয়কে পাচ্ছেন দর্শক।
এই তারকা উপস্থাপক, অভিনেতা ও নির্মাতার জন্মদিন রবিবার (৮ জানুয়ারি)। বিশেষ এই দিনটি জয় নিজের মতো কাটাচ্ছেন। এবারের জন্মদিনে তিনি নিজেই নিজেকে একটি বিশেষ উপহার দিয়েছেন। যেটি ‘অন রেকর্ড’ বলতে চাইলেন না। শুধু বললেন, সবকিছু মিডিয়াতে তুলে ধরতে নেই।
চ্যানেল আই অনলাইনকে জয় বলেন, এখন ম্যাচিউর বয়স পার করছি। পারিবারিক জীবন, কর্ম, যোগাযোগ যা কিছু পাচ্ছি সবকিছুর জন্য শুকরিয়া।
জীবন নিয়ে জয় উপলব্ধির কথা বললেন এভাবে, ‘এসব ২৫ বছর বয়সে চেয়েছিলাম, পাইনি। ৩৫ বছরে চেয়েও পাইনি। ৪০ বছর পার হয়ে জীবনে সবকিছু পেয়েছি। এখন অনেক আনন্দে আছি, তবে সময়েরটা সময়ে পেলে হয়তো আরও বেশী আনন্দিত হতে পারতাম। তবুও আলহামদুলিল্লাহ।’
উপস্থাপনা-অভিনয় প্রসঙ্গে জয় বলেন, উপস্থাপনা শুরু করে সেখানে পলিটিক্স ফেইস করেছি, নতুন করে আবার অভিনয়ে ফিরে সহশিল্পীদের সঙ্গে মিশে বুঝছি এখানেও অনেক পলিটিক্স। পাশাপাশি যখন ব্যবসা করি সেখানেই পলিটিক্স থাকে। যারা সফল তারা সবখানের পলিটিক্স ডিঙিয়ে সফল হয় এবং দিনশেষে সফল মানুষের নামটাই থেকে যায়। ওয়ার্ল্ডকাপে এমবাপে এবং মেসি দুজনেই সমান খেলেছে। কিন্তু শেষে মেসিই ওয়ার্ল্ডকাপে চুমু দিতে পেরেছে। ইতিহাসে মেসির নাম থেকে যাবে। কিন্তু হৃদয় জয় করা এমবাপেকে মানুষ বেশীদিন হৃদয়ে লালন করবে না। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা।
‘ভিনদেশী আর্টিস্টরা ক্যামেরার সামনে কত সুন্দর করে ইন্টারভিউ দেয়, কথা বলে। কিন্তু আমাদের দেশের অধিকাংশ আর্টিস্ট নিজের মাতৃভাষা সঠিকভাবে উচ্চারণ করে বলতে পারে না। এই কারণে তারা ট্রলের শিকার হন। ব্যক্তিগতভাবে আমি অনুভব করি আমাদের সেলফ ম্যানেজমেন্ট দরকার। এটা নিয়ে বেশী অনুশীলন করা উচিত। আমি নিজে প্রতিদিনই কাজ নিয়ে অবজারভেশন করি, প্রচুর লেখাপড়ি করি অনুশীলন করি।’
জন্মদিনে ভবিষ্যৎ নিয়ে কী ভাবছেন? জয়ের উত্তর, সময়ের সঙ্গে থাকতে পারাটাই আমার চ্যালেঞ্জ। আমার শাকিব খান হওয়ার চাপ নাই, হানিফ সংকেতও হতে চাই না। কারণ অভিনয় ও উপস্থাপনার দুই মহীরুহ তারা। তাদের চেয়ে বড়কিছু দুই মাধ্যমে আর কেউ নাই। আমার চাপ হচ্ছে সময়ের সঙ্গে আপডেট থাকা, নইলে আমি ছিটকে যাবো। আগে কিছুটা ইম্যাচিউর ছিলাম এজন্য ভুলভ্রান্তি করেছি।
জয় বলেন, তখন বিপদে পড়ে ধৈর্য ধরে শেখার চেষ্টা করেছি। আমি মনে করি, খারাপ সময় যদি কেউ ধৈর্য ও বুদ্ধিমত্তা দিয়ে ফেইস করতে পারে তবে সেটা বারুদ হয়ে বের হবে। সৃষ্টিকর্তার উপর ভরসা আছে, সবার দোয়া ও সাপোর্টে আমি এখন আত্মবিশ্বাসী কেউ আমাকে এখন আর আটকে রাখতে পারবে না।







