দেশের বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি সাংবাদিকতার অন্যতম পথিকৃৎ আবীর হাসান মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর।
বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগসহ নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি।
প্রথমে স্ট্রোক এবং পরে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন আবীর হাসান। কয়েক বছর আগে তিনি দৃষ্টিশক্তিও হারিয়ে ফেলেন।
আবীর হাসান বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে চ্যানেল আই ও জনকণ্ঠসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। তিনি ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার হিসেবেও কাজ করেছেন।
১৯৫৬ সালে গাজীপুরে জন্ম নেওয়া আবীর হাসান মাত্র ১৬ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় রয়টার্সের চাকরি নিয়ে ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধ কাভার করতে দেশ ছাড়েন। লিবিয়া, ইটালি, প্যালেস্টাইন প্রবাসী জীবনে নানান কাজে জড়ান।
প্যালেস্টাইনের স্বাধীনতাকামী গেরিলাদের হয়েও যুদ্ধে অংশ নেন। লিবিয়ায় বসবাসকালে বঙ্গবন্ধুর খুনীদের সেখান থেকে বের করে দেবার জন্য সোচ্চার হন আবীর হাসান। পরবর্তীতে ইটালিতে ফাইন আর্টসে উচ্চ শিক্ষা নিয়ে দেশে ফেরন ৮০ এর দশকে। জনকণ্ঠে দীর্ঘ সময় ফিচার এডিটরের দায়িত্ব ছাড়াও আজকের কাগজসহ নানান পত্রিকায় কাজ করেছেন তিনি। পরে বার্তা সম্পাদক হিসেবে চ্যানেল আইতে এবং বার্তা প্রধান হিসেবে রেডিও আমার-এ কাজ করেন আবীর হাসান।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি কম্পিউটার এবং সফটওয়্যার নিয়ে সরল বাংলায় লেখালেখির জন্য পরিচিত আবীর হাসান একাধিক মৌলিক উপ্যনাস লিখেছেন, অনুবাদ করেছেন অনেক বই।
অনেকটাই নিভৃতচারী, অভিমানী এই সাংবাদিক শেষ জীবনে রোগাক্রান্ত হয়ে বাসায় এক প্রকার গৃহবন্দী জীবন যাপন করেন। আবীর হাসানের স্ত্রী গত বছর মারা গেছেন। একমাত্র কন্যা অমৃতা হাসান পেশায় ব্যাংকার। নানান রোগে আক্রান্ত আবীর হাসান গত ১৫ দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
বাদ জোহর তার গ্রীন রোডের বাসায় নামাজে জানাজার পর আবীর হাসানকে গাজীপুরে গ্রামের বাসায় দাফন করা হবে।








