ঈদে মুক্তি পাওয়া আট ছবির মধ্যে ভালো অবস্থানে আছে ‘লিডার আমিই বাংলাদশ’ এবং ‘জ্বীন’। সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, দুটি সিনেমাই বেশ ভালো দেখছে দর্শক! ঈদের ছবির জন্য দর্শক আবারও হলমুখী হওয়ায় বাংলা সিনেমায় সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। বিশেষ করে ‘জ্বীন’-এ অভিনয় করা আবদুন নূর সজল সাফল্যে ভেসে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন।
শুরু থেকে ‘জ্বীন’র প্রচারণায় সক্রিয় সজল। মুক্তির পর ঢাকার সিনেপ্লেক্সগুলোতে প্রচারণায় ছুটে বেড়াচ্ছেন তিনি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ‘জ্বীন’ নিয়ে সজল কথা বলেন চ্যানেল আই অনলাইনের সাথে। উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি বলছিলেন, ঈদে কোয়ালিটি সম্পন্ন ছবিগুলো চলছে। অনেক ভালো অভিনেতা অভিনেত্রীদের ছবি মানুষ উপভোগ করছে। সবার রেসপন্সে বুঝেছি ‘জ্বীন’ খুব ভালো যাচ্ছে। আমি প্রতি মুহূর্তে সবার কাছে কৃতজ্ঞা প্রকাশ করছি।
“জাজ মাল্টিমিডিয়া থেকে জানতে পেরেছি জ্বীন সুপারহিট। আমরা যারা শুটিং করেছি বা এর সঙ্গে জড়িত এটা শুধু তাদের ছবি না। জ্বীন দর্শকদের ছবি, এ কারণে দর্শকরা এই পর্যন্ত এনেছেন। তাদের পাশাপাশি আমার শুভাকাঙ্ক্ষী ও সহকর্মীরা জ্বীনকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আমি সবার কাছে সত্যি কৃতজ্ঞ ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, আমার উপর ভরসা রাখেন, সামনে আরও ভালো কাজ করবো। প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।”

ঈদে মুক্তির পর স্টার সিনেপ্লেক্স ও যমুনা ব্লকবাস্টারে শো বেড়েছে জ্বীন’র। জানা যায়, সিনেপ্লেক্সের একাধিক শাখায় ১৯টি শো চলছে, এবং ব্লকবাস্টারে চলছে ৩টি শো। সেইসঙ্গে শ্যামলী, লাইন সিনেমাস, মমইন, রুটস সিনেক্লাবসহ মোট ১৫টি সিনেমা হলে চলছে ভৌতিক ঘরানার এ ছবি।
শেষ পাঁচ বছর ধরে নিজেকে প্রতিটি কাজের মাধ্যমে ভাঙছেন সজল। যে কাজটি করছেন চেষ্টা করছেন গল্প ও চরিত্রে ভিন্নতা রেখে কিছু না কিছু বার্তা দেওয়ার। জ্বীন’র মাধ্যমে সিনেমা হলে ফ্যামিলি অডিয়েন্সে নতুন নতুন দর্শক পাচ্ছেন বলে জানালেন ছোটপর্দায় তুমুল সাড়া ফেলা অভিনেতা সজল।
ঠিক কী কারণ দর্শক ‘জ্বীন’ গ্রহণ করলো? সজলের উত্তর ছিল এমন, দর্শক গল্পে ভিন্নতা খোঁজে। ‘বেদের মেয়ে জ্যোৎস্না’র গল্প আঙ্গিকে কিন্তু ভিন্নতা ছিল। মতবাদে পার্থক্য থাকলেও অস্বীকার করার উপায় নেই যে, এটি বাংলা চলচ্চিত্রের ওয়ান অব দ্য মোস্ট সাকসেসফুল ফিল্ম। এ থেকে বোঝা যায় ভিন্ন গল্প হলে দর্শক পছন্দ করেন যদি সেটা ঠিকভাবে তাদের কাছে পৌঁছে দেয়া যায়।
‘জ্বীন’ ভিন্ন গল্পে পরিচ্ছন্ন ছবি এবং এতে পরিবারের গল্পে ক্রাইসিস এবং ভয়ভীতি হাসি কান্না আছে তাই দর্শক ভিন্নতা পেয়ে দেখছে বলে জানান সজল।
বিনয়ের সঙ্গে নিজেকে একজন ক্ষুদ্র আর্টিস্ট উল্লেখ করে সজল বলেন, নতুন দর্শক পেয়েছি। তাদের কাছ থেকে উৎসাহ পেয়েছি। একজন বৃদ্ধা আমাকে বলছিলেন স্ক্রিনে রাফসান চরিত্র ক্রাইসিসে পড়লে তিনি দোয়া দুরুদ পড়ছিলেন যেন আমার ক্ষতি না হয়! ভালোবেসে দর্শক কাজটি গ্রহণ করেছে এমন করেছেন। একজন শিল্পীর কাছে এই ভালোবাসাই হচ্ছে সর্বোচ্চ প্রাপ্তির। আমি বিশ্বাস করি ভালোবাসার সঙ্গে এই দোয়ার চেয়ে বড় উপহার আর হয় না।
‘জ্বীন’ কি সুপারহিট ছবি? হাসিমুখে সজল বললেন, এখন অনলাইনে সবকিছু দেখা যায়। টিকেট পাওয়া যাচ্ছে কিনা তাও খুঁজে দেখা যায়। জাজ মাল্টিমিডিয়া আমাকে জানিয়েছেন, জ্বীন খুব ভালো অবস্থানে আছে। বাকিটা জাজ মাল্টিমিডিয়াই হয়তো জানাবে।
নাদের চৌধুরী পরিচালিত ‘জ্বীন’ ছবিতে সজল ছাড়াও অভিনয় করেছেন পূজা চেরী, জিয়াউল রোশান, মুন প্রমুখ। সবশেষে সজল জানান, সামনে আরও সিনেমা করবেন। তিনি বলেন, একসময় চলচ্চিত্র জৌলুসে ভরপুর ছিল। মাঝে খারাপ সময় কাটিয়ে আবার সিনেমা নতুন করে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। সেই ঘুরে দাঁড়ানোর ছবি তালিকায় যদি ‘জ্বীন’ থাকে সেটা আমার জন্য অনেক প্রাপ্তির হবে। সবার ভালোবাসা ও সমর্থনের কারণে এটা সম্ভব হচ্ছে।








