আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির মতো দলগুলো যখন নির্বাচনী মাঠে সক্রিয়, তখন ভোটে অংশ নেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছে আওয়ামী লীগের সাবেক রাজনৈতিক মিত্র জাতীয় পার্টি (জাপা)।
তবে অনিশ্চয়তা থাকলেও দলটি ভেতরে ভেতরে নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছে। প্রার্থী বাছাইয়ের কাজও চলছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির নেতারা। তাদের দাবি, শেষ পর্যন্ত যদি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে ‘গ্রিন সিগন্যাল’ মেলে, তাহলে তারা জোরেশোরে মাঠে নামবেন।
দলটির ইচ্ছা, এককভাবে নয় বরং জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া। সে ক্ষেত্রে বিএনপি বা জামায়াতে ইসলামী– যে কোনো একটি দলের সঙ্গে জোট করতেও আগ্রহ দেখিয়েছে জাতীয় পার্টি। এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি বাংলা।
জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, “জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নিলে জাতীয় পার্টিরও যেমন আসন সংখ্যা বাড়বে, তেমনি যে দলের সঙ্গে জোট হবে তাদেরও আসন ও ভোট বাড়বে।”
জাতীয় পার্টি মনে করছে, নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়ে এখনো কিছুটা ধোঁয়াশা আছে। তবে তফসিল ঘোষণার পর পরিস্থিতি পরিষ্কার হবে বলে দলের ধারণা। তখন জোট গঠনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসবে তারা।
আগামী ডিসেম্বরেই ঘোষিত হওয়ার কথা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল। এর আগে থেকেই বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী বিভিন্ন আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। একইভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টিও প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শুরু করেছে।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলটি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। ফলে ভোটের রাজনীতিতে জায়গা ফিরে পেতে এখনই প্রার্থী তৈরির কাজ শুরু করেছে জাতীয় পার্টি।
জাপা মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, “পার্টির চেয়ারম্যান অনেকের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমাদের একটা ছক আছে, কোন আসনে কে ভোট করতে পারেন, তা নিয়ে আমরা প্রস্তুত আছি। প্রার্থী ঘোষণা করতে আমাদের বেশি সময় লাগবে না।”
দলীয় সূত্র বলছে, আপাতত ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত সব আসনে প্রার্থী না দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
পাটোয়ারী বলেন, “প্রাথমিকভাবে ৩০০ আসনেরই প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় পার্টি। পরে সিদ্ধান্ত হবে, কতগুলো আসনে ভোট করব আমরা।”
২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচন থেকে ২০২৪ সালের নির্বাচন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ বা আসন সমঝোতার ভিত্তিতে ভোটে অংশ নিয়েছে জাতীয় পার্টি। কখনো সরকারে থেকেও বিরোধী দলের ভূমিকায় ছিল দলটি।
তবে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে জাতীয় পার্টিও রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। গত এক বছরে দলটির বিভিন্ন সভা-সমাবেশে পুলিশের বাধা, এমনকি দলীয় কার্যালয়ে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
তবু দলটির নেতারা আশাবাদী। তাদের বিশ্বাস, শেষ পর্যন্ত তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে তাদের অগ্রাধিকার একক নির্বাচন নয়, বরং জোটবদ্ধভাবে ভোটে অংশ নেওয়া।
শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, “রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই। আমরা বুঝতে পারি, অনেকে আমাদের সঙ্গে জোট করতে আগ্রহী, আমরাও অনেকের সঙ্গে জোট করতে আগ্রহী।”
তিনি বলেন, “২০০১ সালের নির্বাচনের আগে বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে জাতীয় পার্টির জোট হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, কিন্তু তখন হয়নি। এবারের নির্বাচনে বিএনপি বা জামায়াতের সঙ্গে জোটের বিষয়টি পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছি না।”
জাতীয় পার্টি মনে করছে, তফসিল ঘোষণার পর রাজনৈতিক পরিবেশ ও সুযোগের ওপর নির্ভর করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে তারা– জোটে যাবে, নাকি এককভাবে মাঠে নামবে।









