জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এখন তার কূটনৈতিক দক্ষতার সবচেয়ে বড় পরীক্ষার মোকাবেলা করতে চলেছেন। আগামী সপ্তাহে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টোকিয়োতে সাক্ষাৎ করবেন, যা তার বিদেশনীতির অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জাপানের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।
আজ (২৭ অক্টোবর) সোমবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে সিএনএন জানিয়েছে, ট্রাম্পের নির্বাচনের কয়েক মাস পরই তাকাইচিকে ওয়াশিংটনে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, কিন্তু তিনি তখন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন যে প্রথম সাক্ষাৎ করা উচিত তখনকার প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবাকে। তবে এখন তার সেই দিন এসে গেছে।
ট্রাম্প-তাকাইচি বৈঠকে মূলত ট্যারিফ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং জাপানের প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে আলোচনা হবে। আগে কিশিদা প্রশাসনের অধীনে জাপান ২০২৭ সালের মধ্যে জিডিপির ২ শতাংশ প্রতিরক্ষা ব্যয়ে পৌঁছানোর অঙ্গীকার করেছিল। তাকাইচি এটি ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে চাচ্ছেন। তবে তার পরিকল্পনা অর্থায়ন কিভাবে হবে তা এখনও অনিশ্চিত।
বাণিজ্য ক্ষেত্রে, জাপানি পণ্যের ওপর ট্রাম্পের ট্যারিফ ২৫ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশে নামানো হলেও বিস্তারিত অনেক জায়গায় অস্পষ্ট। তাকাইচি স্পষ্টতা চাওয়ার জন্য নতুন দল নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় যাচ্ছেন। চীনের সঙ্গে সম্পর্কও চ্যালেঞ্জিং হবে। জাপান ও চীনের বাণিজ্য ঘনিষ্ঠ হলেও নিরাপত্তা এবং মার্কিন জোটের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখার চাপ থাকছে।
তাকাইচির পূর্বদিকে শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। তিনি চীনের সামরিক সম্প্রসারণ ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে পুরনো বিরোধ নিয়ে কঠোর মনোভাব দেখিয়েছেন। তবে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি কিছুটা নরম কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে তিনি ইতিবাচক সংকেত দিয়েছেন এবং এশিয়ার অন্যান্য দেশে সহযোগিতা জোরদার করতে চাইছেন।
নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য এটি কেবল প্রথম বৈশ্বিক পরীক্ষা নয়, এটি তার রাজনৈতিক ভবিষ্যত এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। ৭১ শতাংশ সমর্থন নিয়ে তিনি বিদেশি মঞ্চে তার সক্ষমতা প্রমাণ করতে যাচ্ছেন। তাকাইচির এই সাক্ষাৎ ও পরবর্তী পদক্ষেপ জাপান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে এবং এশিয়ায় শক্তি ভারসাম্য নির্ধারণেও প্রভাব ফেলবে।
ট্রাম্প ইতিমধ্যে তাকাইচির প্রতি ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন এবং তাদের ফোনালাপে খুবই ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন। ট্রাম্প বলেছেন, তিনি তাকাইচিকে বন্ধুসুলভ মনে করেন।









