রুবেল হোসাইন, জাবি:
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
আজ রোববার ৫ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন সড়কে মানববন্ধন করেন তারা। এতে তিন শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। এর আগে বৃহস্পতিবারের ঐ দুর্ঘটনায় জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান আহত হন।
মানববন্ধনে জাহিদের বন্ধু জাওয়াদ বিন মিজান বলেন, ‘আহত জাহিদ আমার বন্ধু, আমার রুমমেট। সে আজ আহত হয়ে হাসপাতালের বেডে পড়ে আছে। আমরা নতুন ক্যাম্পাসে এসেছি, এর মধ্যে বেপরোয়া দুর্ঘটনায় আমাদের বন্ধু আহত হয়েছে। আমরা এর নিন্দা জানাই। আর কেউ যাতে আহত না হয়, আর কোনো দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে তার নিশ্চয়তা চাই।’
শিক্ষার্থী আবু নঈম তরুণ বলেন, এর আগেও আমাদের বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের ছাত্রী পুজা মজুমদার রিকশা দুর্ঘটনায় আহত হয়। সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হচ্ছে এক বছর এক মাসের মাথায় আবারো আমাদেরকে নামতে হয়েছে রাস্তায়। নবীন শিক্ষার্থী মাত্র দু’দিন হলো ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলেন। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং অনতিবিলম্বে ঘাতকের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক সোহেল রানা শিক্ষার্থীর প্রতি সংহতি জানিয়ে বলেন, ‘আমরা শুধু একজন শিক্ষার্থীর জন্য আজ এখানে দাঁড়িয়েছি এমনটা নয়। ধারাবাহিকভাবে এ ধরণের ঘটনা ঘটছে। আমরা সকল ঘটনার প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আর এর কারণ হলো, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চরম উদাসীনতা। তাদেরকে দায় নিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা চাই ক্যাম্পাস নিরাপদ হোক। আমরা সুষ্ঠুভাবে আমাদের ক্যাম্পাসে হাটতে চাই।’
মানববন্ধনে কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোজাম্মেল হক বলেন, ‘অটোরিকশা এবং মোটরসাইকেল বেপরোয়া চলার জন্য আমরা প্রতিনিয়ত সমস্যার মধ্যে পড়ছি। দাবি জানাই, আমাদের বর্তমান রাস্তা প্রশস্ত করার এবং ফুটপাথ নির্মাণ করার।’
সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক রাকিব আহমেদ বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থী গুরুতর আহত। হাসপাতাল জানিয়েছে পাঁচ থেকে সাত দিন না গেলে তার অবস্থা বোঝা যাচ্ছে না। কয়দিন পর পরই এরকম দুর্ঘটনা ঘটছে। জাহিদের দুর্ঘটনার সাথে জড়িত শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুসারে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।’
মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন, ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার, অধ্যাপক মনিরুল হাসান খান, রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক আওলাদ হোসেন, সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আমিনা ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক সুমাইয়া শিফাত, সালমা আহমেদ ও প্রভাষক সালমা সাবিহা প্রমুখ।
পরে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দায়ী শিক্ষার্থীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করাসহ পাঁচ দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নূরল আলমের কাছে স্মারকলিপি দেন তারা।
তাদের অন্য দাবিগুলো হলো-
লাইসেন্সবিহীন মোটরসাইকেল নিষিদ্ধ করা, নিবন্ধনকৃত রিকশার বাইরে ক্যাম্পাসে কোন ধরণের ব্যাটারিচালিত রিকশা চলতে না দেওয়া, মোটরসাইকেলসহ যেকোন মোটর গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় গতিরোধক স্থাপন করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরের সরু রাস্তাগুলো প্রশস্ত করা, পার্শ্ব রাস্তা নির্মাণসহ পুরো ক্যাম্পাসে সড়কবাতি নিশ্চিত করা।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মওলানা ভাসানী হল সংলগ্ন সড়কে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের প্রথম বর্ষের (৫১ ব্যাচ) জাহিদ হাসান নামে এক শিক্ষার্থী মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হন। চালক ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ফেরদৌস মাহমুদ নিওন (৪৫ ব্যাচ)। তিনি আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের আবাসিক ছাত্র।
আহত জাহিদ হাসান বর্তমানে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।








