জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের বহনকারী মহাখালি-নওগাঁ রুটের একটি বাসে একতা পরিবহনের ড্রাইভার, হেলপারসহ অন্যান্য স্টাফরা অমানবিক ও আগ্রাসী হামলা চালায়। এই ঘটনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতজন শিক্ষার্থীসহ বাসের হেলপার-ড্রাইভার মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন।
রোববার (২৯ ডিসেম্বর) মহাখালীর বাস টার্মিনাল এলাকায় একতা পরিবহনের ড্রাইভারদের ও হেল্পাররা এ হামলায় চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, একতা পরিবহনের স্টাফরা গাড়ি থামিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ির ভেতর লাঠিসহ প্রবেশ করে শিক্ষার্থীসহ ড্রাইভারকে আক্রমণ করে। এতে শিক্ষার্থীরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। হামলার সময় শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গেলে ড্রাইভার জগদীশকে মারধর করা হয়, যার ফলে তিনি গুরুতর আহত হন একই সাথে তার চোখের মারাত্মক ক্ষতি হয় এবং তাকে তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আহতরা হলেন, বাসের হেল্পার বিলামিন আহমেদ, সাংবাদিকতা বিভাগের মিজানুর রহমান সোহাগ, একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন বিভাগের ইসাক হোসাইন, ফিন্যান্স বিভাগের সাহাদাত হোসেন, ১৯তম আবর্তনের আখি আলম, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের আখি মনি, মার্কেটিং বিভাগের নিহাল রহমান, রসায়ন বিভাগের দেওয়ান সাইফ।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান সোহাগ বলেন, একতা বাস এক জায়গায় অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার বিষয়ে আমাদের বাসচালক মামা যখন একতা বাসের ড্রাইভারকে বলে তখন সে লাঠি দিয়ে আমাদের বাসচালক মামার উপর হামলা চালায়। তারপর তাকে ধরে নিয়ে যেতে চাইলে আমরা বাধা দিই। তখন আমাদের উপরও হামলা চালায়। বাসে মেয়েরা ছিল, তাদের উপরও ইট-পাথর ছুড়ে মারে।
জবির উল্কা-৪ বাস চালক জগদীশ বলেন, মহাখালী বাস টার্মিনালে আমাদের গাড়ির সামনে একতার বাস ছিল। একতা বাসের সামনে কোনো গাড়ি ছিল না। তাদের বারবার সাইড দেয়ার কথা বললেও তারা সাইড না দিয়ে বরং গাড়ি থেকে হেল্পার ও ড্রাইভার লাঠি নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করে। সেখানে একতা বাসের আরো অনেক কর্মচারি ছিলেন তারাও আমাদের ওপর হামলা করে। হামলা করে আমার হাত ভেঙ্গে দিয়েছে এবং সারা শরীরে জখম করে করেছে। চোখে আঘাত করেছে। আমি তাদের বিচার চাই।
আহত জগদীশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টারে এনে রাখা হয়। পরিস্থিতি বুঝে আবার হাসপাতালে ভর্তি করা হবে বলে জানা যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক বলেন, ড্রাইভারের চিকিৎসা বাবদ এক লাখ টাকা, হেলপারের চিকিৎসা বাবদ ৩০ হাজার টাকা এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা ধরা হয়েছে। পরবর্তীতে চিকিৎসার জন্য অতিরিক্ত ব্যয় হলে সেটাও তারা বহন করবে। এছাড়াও বাস মেরামত বাবদ পরিবহন প্রশাসককে নগদ ১২ হাজার ৯০০ টাকা প্রদান করে।









