ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদিকে গুলিবিদ্ধ করার ঘটনায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা। মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শিক্ষার্থীরা ওসমান হাদির ওপর হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানান।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে রায়সাহেব মোড় প্রদক্ষিণ করে বিশ্বজিৎ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’, হাদির ওপর হামলা কেনো, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘সন্ত্রাসীদের আস্তানা, ভেঙ্গে দাও গুড়িয়ে দাও’, ‘আমার ভাই হাসপাতালে, ইন্টেরিম কি করে’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকে।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ইভান তাহসীব বলেন, এটা কোনভাবেই বিশ্বাসযোগ্য না। একটা গণঅভ্যুত্থানের পরে দিনে-দুপুরে একজন রাজনৈতিক কর্মীকে গুলি করা সম্ভব। ইন্টেরিম সরকার যে সংস্কারের কথা বলেছিলেন তা বাস্তবায়ন না হওয়ার ফলেই এই ঘটনা ঘটেছে। মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা আজ হুমকির মুখে। আমরা অবিলম্বে এই সন্ত্রাসী হামলাকারীদের বিচারের দাবি জানাই।
ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা ওসমান হাদির ওপর যে অতর্কিত হামলা হয়েছে, তার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরই এ হামলা প্রমাণ করেছে—ইন্টেরিম সরকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা হাদির পাশে আছি এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানাচ্ছি।’
ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী, জুলাইয়ের গুলিবিদ্ধ ফেরদৌস শেখ বলেন, ‘৫২, ৭১, ৯০ এবং সর্বশেষ ২৪—বারবার আমরা রক্ত দিয়েছি বাংলা ও বাংলার মানুষের জন্য। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমাদের রক্তের বিনিময়ে কিছু কুলাঙ্গার বারবার বাংলার মানুষের সঙ্গে বেইমানি করে যাচ্ছে। এর প্রতিফলন আমরা ২০২৪ সালেও দেখেছি। আমি সন্ত্রাসীদের উদ্দেশে বলতে চাই; ওসমান হাদি একা নন, বাংলার প্রতিটি ঘরেই হাদির মতো মানুষ আছে। আপনারা কজনের ওপর গুলি চালাবেন? এবার বাংলা আমরা বাংলার মানুষের করেই ছাড়ব, ইনশাআল্লাহ।’
লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার অওরীন বলেন, ‘আগে খুন-গুম ছিল খুব সাধারণ ঘটনা। ২৪-এর জুলাই আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য ছিল সত্যিকারের স্বাধীনতা ফিরে পাওয়া। কিন্তু হাদি ভাইয়ের মতো একজন প্রতিবাদি কণ্ঠ যখন নির্বাচনে অংশ নিতে চান, তখনই তার ওপর হামলা, এটা আমাদের নিরাপত্তাহীনতার চরম প্রকাশ। যারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, তাদের উপযুক্ত শাস্তি চাই।’
বিভাগের শিক্ষার্থী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ওসমান হাদির ওপর হামলা অবশ্যই পূর্বপরিকল্পিত হামলা। এই হামলার দায় অবশ্যই ইন্টেরিম সরকারকে নিতে হবে। সরকার এখনো ফ্যাসিবাদীদের কারো বিচারই এখনো কার্যকর করতে পারেনি। ওসমান হাদীর ওপর হামলাকারীদের শুধু বিচার করলেই হবেনা, ভবিষ্যতে এধরণের সন্ত্রাসী কার্যক্রমকে রুখে দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘ওসমান হাদির ওপর হামলাকারীদের বিচার নিশ্চিত করতে না পারলে বাংলার ছাত্রসমাজ রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।’









