ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এক নারীকে প্রাইভেটকার চাপা দিয়ে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া সাবেক শিক্ষক জাফর শাহ কারাগারে অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন।
রুবিনা আক্তার নামে ওই নারীর মৃত্যুর ঘটনায় আটক সেই সাবেক শিক্ষককে কারাগার থেকে আজ ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কেন্দ্রীয় কারাগারের কারারক্ষী মো. আলআমিন জানান, কারাগারে হাজতি হিসেবে বন্দী ছিলেন জাফর শাহ। সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়লে কারাচিকিৎসকের পরামর্শে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে এলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। জাফর শাহের হাজতি নম্বর- ১১৭/২৩।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া জানান, কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কারারক্ষীরা অচেতন অবস্থায় সেই সাবেক শিক্ষককে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরে তার মৃত্যু হয়।
জাফর শাহের গাড়িচাপায় নিহত রুবিনা আক্তারের আত্মীয় নুরুল আমিন জানান, রুবিনাদের বাসা হাজারীবাগ এলাকায়। তেজগাঁও স্বামীর বাসা থেকে রুবিনাকে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে হাজারীবাগ যাচ্ছিলেন। পথে শাহবাগ থানাধীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনের রাস্তায় প্রাইভেটকারটি পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। তখন রুবিনা পড়ে গেলে প্রাইভেটকারটি তার ওপর উঠিয়ে দেয়। এতে গাড়ির বাম্পারের সঙ্গে আটকে যান তিনি। তখন তাকে টেনেহিঁচড়ে প্রায় নীলক্ষেত পর্যন্ত নিয়ে যান প্রাইভেটকারের চালক জাফর শাহ। তখন লোকজন তার পিছু নেয়। ধাওয়া দিয়ে নীলক্ষেত এলাকায় গিয়ে তার গতিরোধ করে গাড়ির নিচ থেকে ওই নারীকে বের করে। ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলেও বাঁচানো যায়নি রুবিনাকে।
তখন উত্তেজিত লোকজন ওই প্রাইভেটকার চালককে গণধোলাই দেয়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে ভর্তি করায়।
গাড়িচাপার ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে নিহত রুবিনার পরিবার মামলা করলে হাসপাতাল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। চিকিৎসা শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মৃত জাফর শাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক ছিলেন। ২০০৭-২০০৮ সালের দিকে নৈতিক স্খলনের অভিযোগে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।







