শিশু এবং কিশোর-কিশোরীদের কাছে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের লেখালিখি অন্যরকম জনপ্রিয়। বিশেষ করে তার সৃষ্ট শিশুতোষ গল্প উপন্যাসগুলো একটু বেশিই প্রিয়!
এবার এই লেখকের উপন্যাস ‘রাতুলের রাত রাতুলের দিন’ অবলম্বনে আবু রায়হান জুয়েল নির্মাণ করলেন ছবি ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’। যা মুক্তি পেতে যাচ্ছে আগামী ২০ জানুয়ারি।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ছবির পোস্টার ও ট্রেলার প্রকাশ উন্মোচন অনুষ্ঠানের আয়োজন ছিলো রাজধানীর বেইলি রোডের মহিলা সমিতিতে।
সেখানে ছবির নায়ক সিয়াম, নায়িকা পরীমনির ছাড়াও এসেছিলেন ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। অনুষ্ঠান শেষে তিনি বলেন, প্রায়ই চিত্রপরিচালকরা আমার গল্প উপন্যাস থেকে ছবি তৈরি করতে চান। কিন্তু আমি অনুমতি দেই না। আমি চাই, বই পড়ে মানুষ কল্পনা করুক। নইলে পরিচালক ছবি বানালে চরিত্রগুলো যেভাবে প্রেজেন্ট করা হয় মানুষ সেটাই বুঝে নেয়। কিন্তু ‘রাতুলের রাত রাতুলের দিন’ যখন লিখেছিলাম তখন চলচ্চিত্র নির্মাণ হবে এই উদ্দেশ্যে লিখেছিলাম। এজন্যই এই গল্পটা চলচ্চিত্র বানাতে অনুমতি দেই।
তিনি বলেন, ‘অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি শিশুরা কীভাবে ছবিটি তাদের অভিভাবক নিয়ে সিনেমা হলে গিয়ে উপভোগ করে।’
শিশুতোষ গল্প লেখালেখি করতে গিয়ে তাদের পালস বোঝেন কীভাবে? উত্তরে চ্যানেল আই অনলাইনকে দেশের বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর অন্যতম এই লেখক বলেন, আমার বয়স আসলে বাড়েনি, বড়দের মতো ভান করি। আমি একদমই বড় হই নাই।
তিনি বলেন, আমাকে যদি ছোটদের সাথে কথা বলতে দেয়া হয়, ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাদের সাথে কথা বলতে পারি। কিন্তু বড়দের সাথে কথা বলতে বলা হয় চিন্তা করে বলতে হয়। শিশুদের সাথে আমার যোগাযোগ তাই বেশি হয়। কাজেই আমার বয়স একদমই বাড়ে নাই।
প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, আমি সবসময় চাই বাচ্চারা তাদের জীবন উপভোগ করুক। এই উপভোগের অন্যতম উপাদান চলচ্চিত্র। একটি ভালো চলচ্চিত্র শিশুদের কাল্পনিক শক্তির বিকাশ ঘটায়। কিন্তু আমাদের দেশে শিশুতোষ চলচ্চিত্র বেশি নির্মিত হয় না, তাই উপভোগের বিষয়গুলো তারা মিস করে। আমি অত্যন্ত আনন্দিত আমার গল্প থেকে ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’র মতো ভালো চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে।
সরকারি অনুদান পাওয়া ছবি অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’র পোস্টার ও ট্রেলার উন্মোচন অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এর সহ-প্রযোজক বঙ্গের চিফ কনটেন্ট অফিসার মুশফিকুর রহমান, চিত্রপরিচালক মোরশেদুল আলম, শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান লাকী ইমাম প্রমুখ।







