ক্ষমতা ছেড়ে বাংলাদেশ ছাড়ার পর শেখ হাসিনার চূড়ান্ত গন্তব্য কোথায় হবে, সেটি এখনও পরিষ্কার নয়। এমন পরিস্থিতে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের গবেষক টম কিন বলেন, পশ্চিমা দেশগুলোতে রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়া শেখ হাসিনার জন্য খুব ‘কঠিন’ হবে। এমনকি সম্ভব নাও হতে পারে।
বিবিসি বাংলা তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন-ভিত্তিক গবেষণা সংস্থা উইলসন সেন্টারের সাউথ এশিয়া ইনিস্টিটিউট এর পরিচালক মাইকেল কুগেলম্যানও মনে করেন, পশ্চিমা কোন দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়া শেখ হাসিনার জন্য খুব কঠিন হবে।
গবেষক টম কিন বলেন, ছাত্র বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনী যে শক্তি প্রয়োগ করেছে সেটির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ও জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল। তারপরেও শক্তি প্রয়োগ করা থেকে শেখ হাসিনা সরকারকে নিবৃত্ত করা যায়নি। সে চেয়েছিল ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য আরও বেশি মানুষ হত্যা করতে।
তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত যদি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বিষয়গুলো তদন্ত করে এবং কোন বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয় সেটি ভিন্ন পরিস্থিতির তৈরি করবে। সেক্ষেত্রে তিনি যুক্তরাজ্যে থাকলেও নিরাপদে থাকতে পারবেন না।
টম কিন বলেন, বাংলাদেশে যা হয়েছে সেটি সবাই দেখেছে। প্রচুর ভিডিও-ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসেছে। বছর বিশ-ত্রিশ আগে বিষয়গুলো এতো দ্রুত ছড়াতো না। যে পরিমাণ রক্তপাত হয়েছে এবং শেখ হাসিনার প্রতি যে দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়েছে সেটি বেশ নেতিবাচক।
মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে যে প্রবল শক্তি প্রয়োগ করেছে এবং শেখ হাসিনা সরকারের যে দমন-পীড়ন ছিল সেটি নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর খুবই আপত্তি ছিল। এটা শেখ হাসিনার জন্য খুবই চিন্তার বিষয় হবে, কারণ তার পরিবারের অনেক সদস্য পশ্চিমা দেশগুলোতে বসবাস করে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে যেসব দেশ মাথা ঘামায় না, তারা হয়তো তাকে আশ্রয় দিতে পারে। এটা পশ্চিমা দেশগুলোর বাইরে কোন দেশ হতে পারে অথবা গাল্ফ দেশগুলোতে হতে পারে।
টম কিন বলেন, বাংলাদেশে যা হয়েছে সেটি সবাই দেখেছে। প্রচুর ভিডিও-ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসেছে। বিশ-ত্রিশ আগে বিষয়গুলো এতো দ্রুত ছড়াতো না। যে পরিমাণ রক্তপাত হয়েছে এবং শেখ হাসিনার প্রতি যে দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়েছে সেটি বেশ নেতিবাচক।
টম কিন আরও বলেন, স্নায়ুযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের মিত্রদের আশ্রয় দিয়েছে। আমার মনে হয়না শেখ হাসিনার প্রতি তাদের কোন দায়বদ্ধতা আছে। শেখ হাসিনা অতীতে কখনো কখনো পশ্চিমাদের পছন্দের তালিকায় যেতে পেরেছে, কিন্তু মিত্র হয়ে উঠতে পারেনি।
এর আগে, গত সোমবার ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। বর্তমানে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন।









