যুদ্ধবিরতি আলোচনা অচলাবস্থায় পৌঁছানোর পর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গাজা উপত্যকা সম্পূর্ণ দখলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি গণমাধ্যম।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।
এতে বলা হয়, যুদ্ধবিরতি আলোচনা অচলাবস্থায় পৌঁছানোর পর গাজায সম্পূর্ণ দখল করতে চলেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।
নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে চ্যানেল ১২-এর প্রধান রাজনৈতিক বিশ্লেষক অমিত সেগা বলেছেন, “সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ না করে হামাস আর জিম্মিকে মুক্তি দেবে না এবং আমরাও আত্মসমর্পণ করব না। যদি আমরা এখনই পদক্ষেপ না নিই, তাহলে জিম্মিরা অনাহারে মারা যাবে এবং গাজা হামাসের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।”
ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পরিকল্পনার নিন্দা জানিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তাদের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন রোধে জরুরিভাবে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছে।
ইসরায়েলি হামলার পাশাপশি অপুষ্টিতে ফিলিস্তিনিদের মৃত্যু ক্রমাগত বেড়েই চলছে। এ অবস্থায় গাজায় আরও মানবিক সহায়তা বাড়ানো এবং যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য নেতানিয়াহু ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক চাপের সম্মুখীন হচ্ছেন।
এদিকে গাজার চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, সোমবার গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় ৩৬ জন ত্রাণপ্রার্থীসহ কমপক্ষে ৭৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
সোমবার নেতানিয়াহু গাজায় অভিযান দ্বিগুন করেছেন। এ অভিযানে লক্ষ্য হলো- হামাসকে নির্মূল করা এবং অবশিষ্ট বন্দীদের মুক্তি নিশ্চিত করা।
এদিকে সোমবার হামাসের সিনিয়র নেতা ওসামা হামদান যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের ‘অপরাধের প্রতি চোখ বন্ধ রাখা’র অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলের জেদ, অহংকার এবং যুদ্ধবিরতির চুক্তি থেকে পিছু হটা-এসবই বন্দিদের জীবনের জন্য চরম হুমকি। গণহত্যা ও দুর্ভিক্ষের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি জনগণকে নিশ্চিহ্ন করার দায় নেতানিয়াহুর সরকারেরই।’
গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় কমপক্ষে ১৮ হাজার ৪৩০ জন শিশুসহ ৬০ হাজার ৯৩০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২৭ জন নিহতসহ ৪৯ জন বন্দী এখনও হামাসের হাতে বন্দী।









