ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় এক হামলায় হামাসের জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার রায়েদ সাদকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। তবে তাঁর নিহতের বিষয়টি হামাস কিংবা গাজার চিকিৎসা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবারের ওই হামলায় পাঁচজন নিহত এবং কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছেন।
হামাস এক বিবৃতিতে জানায়, গাজা শহরের বাইরে একটি বেসামরিক গাড়িতে ইসরায়েলি হামলা চালানো হয়েছে। তারা এই হামলাকে অক্টোবরে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে দাবি করেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে দাবি করে, রায়েদ সাদ হামাসের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের কাজে যুক্ত ছিলেন। সেনাবাহিনীর মতে, তিনি ৭ অক্টোবর ২০২৩ সালে ইসরায়েলের ওপর হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ছিলেন।
একজন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, রায়েদ সাদ ছিলেন হামাসের অস্ত্র উৎপাদনকারী বাহিনীর প্রধান এবং দীর্ঘদিন ধরেই তিনি ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তু ছিলেন।
হামাস সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, রায়েদ সাদ ছিলেন ইজ্জ আল-দিন আল-কাসাম ব্রিগেডের কমান্ডার ইজ্জ আল-দিন আল-হাদ্দাদের পর দ্বিতীয়-ইন-কমান্ড। তিনি হামাসের গাজা সিটি ব্যাটালিয়নের প্রধান ছিলেন, যা সংগঠনটির সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে ভালোভাবে সজ্জিত ইউনিটগুলোর একটি বলে জানা গেছে।
ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, গাজা শহরের পশ্চিমে নাবুলসি জংশনে একটি গাড়িতে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। তবে হামলায় ঠিক কতজন নিহত হয়েছেন বা লক্ষ্যবস্তু হামাস সদস্য ছিলেন কিনা—সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য দেয়নি সংস্থাটি।
গাজার কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল প্রায় ৮০০টি হামলা চালিয়েছে, যাতে কমপক্ষে ৩৮৬ জন নিহত হয়েছে। তারা এসব হামলাকে যুদ্ধবিরতির ধারাবাহিক লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করেছে। এছাড়া ইসরায়েল গাজায় প্রবেশকারী অধিকাংশ মানবিক সহায়তা ট্রাক আটকে দিচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাব বিপুল ভোটে গৃহীত হয়েছে। এতে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে—গাজা উপত্যকায় অবাধ মানবিক সহায়তা প্রবেশের অনুমতি দিতে, জাতিসংঘের স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে এবং দখলদার শক্তি হিসেবে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে।









