বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন ও বৃহৎ সংগীত প্রতিযোগিতা বলা হয় ইউরোভিশন গানের প্রতিযোগিতাকে। ১৯৫৬ সাল থেকে বার্ষিক এই সংগীত উৎসবটি নিয়মিত আয়োজন করে আসছে ইউরোপীয় সম্প্রচার ইউনিয়ন (ইবিইউ)। তবে আসন্ন আয়োজন নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।
যার মূলে রয়েছে ইসরায়েল! ২০২৬ সালের ইউরোভিশনে যদি ইসরায়েলকে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়, তাহলে এই আয়োজনে অংশ নেবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে আয়ারল্যান্ড।
দেশটির জাতীয় সম্প্রচার সংস্থা আরটিই (আরটিই) ঘোষণা করেছে, ইসরায়েলকে অংশগ্রহণ করতে দিলে তারা আগামী ইউরোভিশন গান প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়াবে। সংস্থাটি বলেছে, গাজার যুদ্ধ এবং ‘ভয়াবহ প্রাণহানির’ প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের সঙ্গে একই মঞ্চে অংশগ্রহণ করা হবে ‘অসঙ্গতিপূর্ণ’।
আয়ারল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সমালোচনামুখর অবস্থান নিয়েছে এবং দক্ষিণ আফ্রিকার আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) দায়ের করা ইসরায়েলের গণহত্যার অভিযোগে করা মামলাতেও দেশটি যোগ দিয়েছে। গত বছর জানুয়ারিতে আইসিজে অন্তর্বর্তী আদেশে বলেছিল, গাজায় গণহত্যা রোধে ইসরায়েলকে পদক্ষেপ নিতে হবে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থাও গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধকে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করেছে।
ডাবলিনে আয়ারল্যান্ডের ইসরায়েলবিরোধী অবস্থানের প্রতিবাদে ইসরায়েল তার দূতাবাস বন্ধ করে দিয়েছে।
ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপিয়ান ব্রডকাস্টিং ইউনিয়নের (ইবিইউ) সদস্য হিসেবে ইউরোভিশনে অংশ নিয়ে আসছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গাজার বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের কারণে প্রতিযোগিতায় ইসরায়েলের অংশগ্রহণ নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাদের সাম্প্রতিক বোমাবর্ষণে শুধু গাজা শহরের প্রায় এক মিলিয়ন মানুষকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। নিহতের সংখ্যা ৬৪ হাজার ছাড়িয়েছে।
আরটিই বলেছে, “গাজায় চলমান এবং ভয়াবহ প্রাণহানির কারণে আয়ারল্যান্ডের অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ অসঙ্গতিপূর্ণ।” পাশাপাশি তারা সাংবাদিক হত্যাকাণ্ড, আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের গাজায় প্রবেশে বাধা এবং অবশিষ্ট জিম্মিদের করুণ অবস্থা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এ পর্যন্ত ২৭০ জনেরও বেশি সাংবাদিক নিহত হয়েছেন, যা ইতিহাসে সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘর্ষ।
কী বলছে আয়োজক ইবিইউ? এক প্রতিক্রিয়ায় ইবিইউ বলেছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর উদ্বেগ ও অবস্থানকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে। সংস্থার পরিচালক মার্টিন গ্রিন এক বিবৃতিতে জানান, আগামী ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত সদস্য রাষ্ট্রগুলো জানাতে পারবে তারা ভিয়েনায় অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ সালের প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে কি না!
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজও ইসরায়েলকে ইউরোভিশন থেকে বহিষ্কারের পক্ষে মত দেন এবং উল্লেখ করেন, রাশিয়াকে যেমন ২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের পর বাদ দেওয়া হয়েছিল, ইসরায়েলকেও তেমনভাবে বাদ দেওয়া উচিত, কারণ “সংস্কৃতির ক্ষেত্রে দ্বৈত মানদণ্ড চলতে পারে না।”
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে ইবিইউর রায়ের পর। তবে আরটিই স্পষ্ট করেছে, ইসরায়েলকে অনুমতি দিলে আয়ারল্যান্ড ইউরোভিশনে অংশ নেবে না। আয়ারল্যান্ড ১৯৬৫ সাল থেকে এই সংগীত প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে এবং এ পর্যন্ত সাতবার জয়ী হয়েছে। এই রেকর্ড কেবল আছে শুধু সুইডেনের।
ইউরোপীয় সম্প্রচার ইউনিয়ন (ইবিইউ)-এর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অনুষ্ঠিত একটি বার্ষিক সংগীত প্রতিযোগিতা, যাকে ইউরোভিশনও বলা হয়। এই প্রতিযোগিতা ১৯৫৬ সালে শুরু হয়েছিল এবং এটি বিশ্বের বৃহত্তম লাইভ টিভি ও অনলাইন মিউজিক অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি, যেখানে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের শিল্পীরা অংশগ্রহণ করেন। প্রতিটি দেশ তাদের নিজস্ব জাতীয় নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একজন শিল্পীকে নির্বাচন করে এবং তারা সেখানে তাদের সেরা গান নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। সেখান থেকে দর্শক-শ্রোতারা সেরা সংগীত নির্বাচন করে থাকেন। এই প্রতিযোগিতা থেকে সুইডিশ বিখ্যাত পপ গ্রুপ আব্বা এবং টাইটানিক চলচ্চিত্রের থিম ‘মাই হার্ট উইল গো অন’ খ্যাত সেলিন ডিওনের মতো আন্তর্জাতিক তারকাদের উত্থান হয়েছে। আল জাজিরা









