গাজায় ইসরায়েলের অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। এই অবস্থায় সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ইরানের কনস্যুলেট ভবনে হামলা চালানোর পর থেকে ইসরায়েল তেহরানের পক্ষ থেকে প্রতিশোধমূলক হামলার ভয়ে প্রবল আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
যেকোনো কূটনৈতিক স্থাপনায় হামলা হলে তার জবাব আন্তর্জাতিক আইনে সম্পূর্ণ বৈধ বলে প্রচলিত। এ কারণে ইরানের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা ইসরায়েলকে কঠোর ও অনুশোচনামূলক জবাব দেয়ার কথা জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ইমাম খামেনি বুধবার সকালে ঈদুল ফিতরের নামাজের খুতবায় দামেস্কে ইরানের কনস্যুলেট ভবনে হামলার কথা উল্লেখ করে বলেন, আন্তর্জাতিক রীতি অনুযায়ী একটি দেশের কূটনৈতিক মিশনকে ওই দেশের ভূখণ্ড হিসেবে গণ্য করা হয়। অপশক্তি ইহুদিবাদী ইসরায়েল ইরানের কনস্যুলেট ভবনে হামলা চালিয়ে প্রকারান্তরে ইরানি ভূখণ্ডে হামলা চালিয়েছে। তাই ইসরায়েলকে এই অপরাধের জন্য শাস্তি পেতে হবে এবং তাকে শাস্তি দেয়া হবে।
ইরানের পাল্টা হামলা কেমন হতে পারে, তা নিয়ে ইসরায়েল ও তার সহযোগী দেশগুলো বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ভয়ানক উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ইরান ইসরায়েলে শতাধিক ড্রোন ও কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে পারে। এ অবস্থায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি সম্পর্কে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নানা ধরনের খবর প্রকাশিত হয়েছে। প্রকৃত অর্থেই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইহুদিবাদী ইসরায়েলর জন্য চরম দুঃস্বপ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক প্রতিবেদনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারকে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি বলে উল্লেখ করেছে।
ইসরায়েলে আঘাত হানতে সক্ষম ইরানের এমন ৯টি ক্ষেপণাস্ত্র:
১. খোররামশহর-৪ ক্ষেপণাস্ত্র (খাইবার)

পাল্লা: ২ হাজার কিমি
দৈর্ঘ্য: ১৩ মিটার
ব্যাস: ১.৫ মিটার
ওজন: ৩০ টন
ওয়ারহেড ওজন: ১৫০০ কেজি
গতি: বায়ুমণ্ডলের বাইরে ১৬ ম্যাক/ বায়ুমণ্ডলের ভিতরে ৮ ম্যাক
২. হাজি কাসেম ক্ষেপণাস্ত্র

পাল্লা: ১৪০০ কিমি
দৈর্ঘ্য: ১১ মিটার
ব্যাস: ৮৫ থেকে ৯৫ সেমি
ওজন: ৭ টন
ওয়ারহেড ওজন: ৫০০ কেজি
গতি: ৫ ম্যাক
৩. খায়বার শেকান ক্ষেপণাস্ত্র

পাল্লা: ১৪৫০ কিমি
দৈর্ঘ্য: ১০.৫ মিটার
ব্যাস: ৮০০ মিমি
ওজন: ৪৫০০ কেজি
ওয়ারহেড ওজন: ৫০০ কেজি
গতি: ঘণ্টায় ৫ হাজার কিলোমিটারের বেশি
৪. সিজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্র

পাল্লা: ২,০০০ থেকে ২,৫০০কিমি
দৈর্ঘ্য: ১৭.৫৭ মিটার
ব্যাস: ১.২৫ মিটার
ওজন: ২৩ টন
ওয়ারহেড ওজন: ৫০০ কেজির বেশি
গতি: ১২ থেকে ১৪ ম্যাক
৫. পাভে ক্ষেপণাস্ত্র

পাল্লা: ১,৬৫০ কিমি
উড়ন্ত উচ্চতা: ৫০ মিটারের কম
গতি: ৬০০থেকে ৯০০ কিমি/ঘন্টা
৬. ফাত্তাহ-২ ক্ষেপণাস্ত্র

পাল্লা: ১,৪০০ কিলোমিটারের বেশি
দৈর্ঘ্য: ১২ মিটার
ব্যাস: প্রথম অংশ:৮০ সেমি / দ্বিতীয় অংশ: ৫০ সেমি
ওজন: ৩,৫০০থেকে ৪,১০০ কেজি
ওয়ারহেড ওজন: ৫০০ কেজি
গতি: ৫ ম্যাক
৭. কদর ক্ষেপণাস্ত্র (ট্রিপল)

পাল্লা: ১,৯৫০ কিমি পর্যন্ত
দৈর্ঘ্য: ১৫.৫ থেকে ১৬.৫মিটার
ব্যাস: ১.২৫ মিটার
ওজন: ১৭,৪৮০ কেজি পর্যন্ত
ওয়ারহেড ওজন: ৭০০ থেকে ১০০০ কেজি
গতি: প্রায় ৯ ম্যাক
৮. এমাদ ক্ষেপণাস্ত্র

পাল্লা: প্রায় ১,৭০০ কিমি
দৈর্ঘ্য: ১৫.৫ মিটার
ব্যাস: ২.১৮ মিটার
ওজন: ১,৭৫০ কেজি
৯. শাহাব-৩ ক্ষেপণাস্ত্র

পাল্লা: প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার
দৈর্ঘ্য: প্রায় ১৬ মিটার
ব্যাস: ১.২ মিটার
ওজন: ১,৭৮০ কেজি
এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইরানের অস্ত্র ভান্ডারের মধ্যে অন্যতম এবং সবগুলোই ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম।








