প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক বিমান হামলার পরও ইরানের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ার কোনো আশঙ্কা নেই বলে মনে করছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। একাধিক মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির সরকার এখনও পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে এবং জনসাধারণের ওপর কর্তৃত্ব বজায় আছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি নিউজ এই তথ্য জানায়।
মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। সূত্রগুলো জানায়, “একাধিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে একই ধরনের ফল পাওয়া গেছে ইরানের শাসনব্যবস্থা পতনের মুখে নয় এবং সরকার এখনও জনগণের ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।”
সূত্রগুলোর একজন জানান, সর্বশেষ গোয়েন্দা প্রতিবেদনটি কয়েকদিন আগেই সম্পন্ন হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তেলের দাম বৃদ্ধি ও রাজনৈতিক চাপ বাড়তে থাকায় ২০০৩ সালের পর সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক অভিযানের সমাপ্তি “শিগগিরই” ঘটতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, যদি ইরানের কট্টরপন্থী নেতৃত্ব ক্ষমতায় দৃঢ়ভাবে টিকে থাকে, তাহলে যুদ্ধের গ্রহণযোগ্য সমাপ্তি খুঁজে পাওয়া কঠিন হতে পারে।
একজন জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, বন্ধ দরজার আলোচনায় ইসরায়েলি কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন যে এই যুদ্ধের ফলে ইরানের ধর্মীয় সরকারের পতন ঘটবে এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের কার্যালয় এবং কেন্দ্রীয় অনুসন্ধানকারী সংস্থা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। হোয়াইট হাউস থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, পারমাণবিক স্থাপনা এবং শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের জনগণকে তাদের সরকার উৎখাতের আহ্বান জানালেও পরবর্তীতে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলেন, ইরানের নেতৃত্বকে ক্ষমতাচ্যুত করা এই অভিযানের লক্ষ্য নয়।
হামলায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কমান্ডারসহ অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
তবে মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসি এবং অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব এখনও দেশের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।
এদিকে ইরানের জ্যেষ্ঠ শিয়া আলেমদের পরিষদ সম্প্রতি খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করেছে।
তবে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, তারা ইরানের পূর্ববর্তী সরকারের কোনো অংশকেই টিকে থাকতে দিতে চায় না।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সরকারকে উৎখাত করতে হলে সম্ভবত স্থল অভিযান প্রয়োজন হবে, যাতে দেশের ভেতরে জনগণ নিরাপদে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র এখনও ইরানে সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেয়নি।
এর আগে খবর প্রকাশিত হয় যে, ইরানের কুর্দি মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করেছে তারা ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলা চালাতে পারবে কি না।
ইরানি কুর্দি রাজনৈতিক দল কোমলা পার্টির প্রধান আবদুল্লাহ মোহতাদি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন দিলে “দশ হাজারের বেশি তরুণ অস্ত্র তুলে নিতে প্রস্তুত।”
তবে সাম্প্রতিক মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব কুর্দি গোষ্ঠীর কাছে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি লড়াই চালানোর মতো পর্যাপ্ত অস্ত্র ও জনবল নেই।
সূত্রগুলো জানায়, এসব গোষ্ঠী সম্প্রতি ওয়াশিংটনের কর্মকর্তাদের কাছে অস্ত্র ও সাঁজোয়া যান চেয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতোমধ্যে জানিয়েছেন, তিনি কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে ইরানের ভেতরে অভিযান চালানোর অনুমতি দেননি।








