সঞ্চয়পত্রের সার্ভারে অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তিন সন্দেহভাজন ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিসে সঞ্চয়পত্র লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত তিন কর্মকর্তার কম্পিউটারও জব্দ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সঞ্চয়পত্রের টাকা চুরির ঘটনায় পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এটি হ্যাকিং নাকি তথ্য জালিয়াতি-তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
বৃহস্পতিবার মতিঝিলের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, “ঘটনার পর জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের সার্ভার ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থার নিরাপত্তা আরও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় রাজধানীর মতিঝিল থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন বলেন, “সঞ্চয়পত্রের টাকা চুরির ঘটনায় মামলা হয়েছে। জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সম্প্রতি মতিঝিল অফিস থেকে কেনা ২৫ লাখ টাকার একটি সঞ্চয়পত্র ভুয়া লেনদেনের মাধ্যমে আত্মসাৎ করে একটি জালিয়াত চক্র। সঞ্চয়পত্রটি কেনা হয়েছিল অগ্রণী ব্যাংকের জাতীয় প্রেস ক্লাব শাখা থেকে, তবে অর্থ চলে যায় এনআরবিসি ব্যাংকের দিনাজপুর উপশাখার এক গ্রাহক, আরিফুর রহমানের হিসাবে। পরে তিনি ঢাকার শ্যামলী শাখা থেকে নগদ অর্থ তুলে নেন।
একই কৌশলে আরও দুটি লেনদেনে ডাচ্–বাংলা ব্যাংকের এক হিসাবে ৩০ লাখ এবং এনআরবি ব্যাংকের মাধ্যমে ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ভাঙানোর চেষ্টা করা হয়। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরে আসায় শেষ মুহূর্তে ওই লেনদেন দুটি স্থগিত করা হয়।
পরে বিএফআইইউ সন্দেহভাজন তিনটি ব্যাংক হিসাবই জব্দ করে।









