লবণাক্ততার কারণে যেসব জমি একসময় অনাবাদি পড়ে থাকত-সেখানে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করে নিজেদের উদ্যোগে বীজ থেকে তেল উৎপাদন করছেন কৃষকরা।
বুধবার (১৬ জুলাই) মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে কৃষকদের উৎপাদিত সূর্যমুখী তেল বিক্রির আয়োজন করা হয়। প্রতি লিটার তেলের মূল্য ধরা হয় ৩০০ টাকা এবং মোট ২৫০ লিটার তেল বিক্রি করা হয়। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কৃষকরা অয়েল ক্রাশিং ও ফিল্টার মেশিনের মাধ্যমে এসব তেল তৈরি করেন।
চলতি বছর (২০২৫ সাল) পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় প্রায় ৫ হাজার বিঘা পতিত জমিতে সূর্যমুখী চাষ করা হয় এবং ১ হাজার ৮০০ টন তেল উৎপাদিত হয়। সূর্যমুখী বীজ থেকে বছরে ৬ লাখ ৩০ হাজার লিটার তেল উৎপাদন করা সম্ভব, যার স্থানীয় বাজারমূল্য প্রায় ১৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা।
এক সময় লবণাক্ততার কারণে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় আমন ধান কাটার পর বেশিরভাগ জমি অনাবাদি থাকত। ব্র্যাক এডাপটেশন ক্লিনিক কৃষকদের সূর্যমুখী চাষে বীজ সহায়তা, চাষ পদ্ধতি, সার ও বালাই ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করে।
ব্র্যাক জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচির উদ্যোগে সূর্যমুখী চাষ একটি জলবায়ু-সহনশীল ফসল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। লবণসহিষ্ণু সূর্যমুখীর জাত ‘হাইসান-৩৩’ চাষ করে আশাতীত ফলন পাওয়া গেছে।
ফলন ভালো হওয়ায় কলাপাড়ার কৃষকরা এখন আরও ব্যাপকভাবে সূর্যমুখী চাষ করছেন। সূর্যমুখী বীজের তেলে ক্ষতিকারক উপাদান, বিশেষ করে কোলেস্টেরল কম। এ জন্য বাজারে সূর্যমুখীর তেলের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।
তেলজাতীয় ফসল হিসেবে সূর্যমুখী চাষের ক্ষেত্রে একটা বড় প্রতিবন্ধকতা হলো বীজ থেকে তেল উৎপাদন করা।
কৃষকরা যাতে স্থানীয়ভাবে তেল উৎপাদন করতে যাতে পারে, সেজন্য ব্র্যাক এডাপটেশন ক্লিনিকের মাধ্যমে কৃষকের কাছে সূর্যমুখীর খোসা ছাড়ানো, তেল ভাঙানো ও রিফাইন করার মেশিন দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে উপকূলীয় অঞ্চলে লবণসহিষ্ণু সূর্যমুখী চাষ একদিকে যেমন কৃষকের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে, অন্যদিকে তৈরি করছে কৃষি অভিযোজনের এক অনন্য উদাহরণ।
ভবিষ্যতে উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকায় সূর্যমুখী চাষের ব্যাপক অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।









