শীতের শুরু ও পর্যটন মৌসুমকে সামনে রেখে প্রতি বছরের মতো এবারও কক্সবাজারে শুরু হয়েছে শিল্প ও বাণিজ্য মেলা। সোমবার (৩ নভেম্বর) থেকে শুরু হওয়া মেলা চলবে ডিসেম্বর পর্যন্ত। অনুমতি সাপেক্ষে পরে সময় বাড়ানো হতে পারে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত প্রবেশ করা যাবে মেলায়।
সোমবার (৩ নভেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে কক্সবাজার শহরের পর্যটনের গলফ মাঠে বেলুন ও পায়রা উড়ানোর পর ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করেন অতিথিরা। কক্সবাজার চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ও সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজার যৌথভাবে এই মেলার আয়োজন করেছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন, কক্সবাজার পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব রফিকুল হুদা চৌধুরী, েকক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী, সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী, সাধারণ সম্পাদক এস এম জাফর, জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোক্তার আহমদ, জেলা যুবদলের সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ আহমদ উজ্জ্বল, মেলা পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ আবু, সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম লিটনসহ সংশ্লিষ্টরা।
কক্সবাজার পৌর বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল হুদা চৌধুরী, মেলা পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ আবু, মেলা কমিটির সদস্য সচিব সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম লিটনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ অতিথিদের সাথে নিয়ে মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখেন এবং মিষ্টি মুখ করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের পাশে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম সংলগ্ন পর্যটন গলফ মাঠ সাজানো হয়েছে নানন্দিকতায়। বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের স্টল, শিশুদের বিনোদনের জন্য বসানো হয়েছে নাগরদোলা, ট্রেন, দোলনা, জলরাইডারসহ আরও অনেক কিছু। রয়েছে অভিজাত খাবার স্টল। দেখানো হবে ভূতের প্রদর্শনী, সাথে আছে জাদুর মঞ্চ।
পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান মো. সানাউল্লাহ আবু জানান, ইতোমধ্যে শতাধিক স্টল চালু হয়েছে। আরও কিছু চালু হবে। শিশুদের বিনোদনের জন্য রয়েছে আকর্ষণী নানা মাধ্যম।
কক্সবাজার শিল্প ও বাণিজ্য মেলা পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সানাহউল্লাহ আবু ও সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম লিটন জানান, এবার অনেক ক্ষেত্রে মেলায় বেশ ভিন্নতা এসেছে। চারপাশে স্থাপন করা হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত কক্সবাজারের শহীদদের স্মৃতি ফলক। এছাড়া টুইস্ট, লেম্ববাম্বু, ডিজিটাল নাগরদোলা, ইলেকিট্রক নৌকা, কার বাম্পার, ওয়াটার বোট, ওয়াটার বল, ডিজিটাল ট্রেন, জাম্পিং স্লিপার, কার রেসিংসহ শিশুদের জন্য মেলায় বাড়তি বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আনা হয়েছে উন্নতমানের ব্যতিক্রমী হরেক রকমের রাইডস।
মেলায় এসেছে আরএফএল, ভিশন, ওয়াকার, কিয়াম, ইটালিয়ানো, কম্পী, হোম টেক্সটাইল, ইরানী গোল্ডসহ উন্নতমানের সব ব্র্যান্ড। পছন্দের কাপড় যেমন কিনতে পারবেন, তেমনি পায়ের জন্য আরামদায়ক ওয়াকার ব্র্যান্ডের সব ধরনেবর জুতোও রয়েছে। মেরিন সিটি মেগামার্টের বিশাল স্টলে মিলবে প্রয়োজনীয় সবকিছু। মহিলাদের কসমেটিকস ও কাপড়ের বাহারি সামগ্রী নিয়ে স্টল খুলেছে অনলাইন ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ফ্যাশন জোন। নারীদের উন্নতমানের সাশ্রয়ীমূল্যে সবকিছু থাকছে এই স্টলে। মেলায় এবার খাবারেও এসেছে ভিন্নতা। দই ফুসকা এবারের বিশেষ আকর্ষণ। মেলার মাঠে গেলে সিলেটের বিখ্যাত রূহানী আচার সবাইকে কাছে টানবেই। কারণ স্বাদে আর রুচিতে বেশ ব্যতিক্রম এই আচার।
চলবে জাদু প্রদর্শনী। এছাড়াও মেলা প্রাঙ্গণে তৈরী করা হয়েছে অস্থায়ী নামাজ আদায় কেন্দ্র ও শৌচাগার।









