একটি নতুন রিপোর্টে অভিযোগ করা হয়েছে, ভারতের বৃহত্তম ব্যবসায়িক গ্রুপ টাটা ইসরায়েলের গাজা অভিযান ও ফিলিস্তিনে সামরিক দমন নীতির সঙ্গে জড়িত। মার্কিন ভিত্তিক দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক সংগঠন সালাম প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়েছে, টাটা গাজায় চলমান সামরিক দমন ও গণহত্যায় ইসরায়েলকে সমর্থন দিচ্ছে ও লাভবান হচ্ছে।
আজ (২৫ অক্টোবর) শনিবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে তুর্কি সংবাদ মাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানিয়েছে, টাটার কার্যক্রম ইসরায়েলের দখল ও ফিলিস্তিনিদের ওপর নজরদারি এবং বসবাসের অধিকার হরণের প্রক্রিয়ার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। বিশেষত, টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস লিমিটেড ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের সঙ্গে যৌথভাবে বারাক-৮ ক্ষেপণাস্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড সিস্টেম এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ও এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি আক্রমণ হেলিকপ্টারের অংশ সরবরাহ করে, যা গাজায় বিমান হামলায় ব্যবহৃত হচ্ছে।
অটোমোটিভ ক্ষেত্রে, জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার সংস্থার মাধ্যমে টাটা মোটরস হালকা সশস্ত্র যান সরবরাহ করে, যা পশ্চিম তীরের দখলকৃত অঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর রেইড ও জনসংযোগ দমন কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। ডিজিটাল প্রযুক্তি ক্ষেত্রে, টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস ইসরায়েলের আর্থিক ও সরকারি ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রদান করছে, যার মধ্যে রয়েছে বিতর্কিত ক্লাউড প্রকল্প প্রজেক্ট নিমবাস, যা ফিলিস্তিনিদের নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। টাটার এসব উদ্যোগ কেবল ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব নয়, বরং ইসরায়েলের গণহত্যা ও দৈনন্দিন দমন ব্যবস্থার মুল উপাদান। রিপোর্টে টাটাকে ভারত, ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্স নেটওয়ার্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ২০২৪ সালের ১৩ অক্টোবর এক্স পোস্টে ভারতের শিল্পপতি রতন টাটার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছিলেন যা এই সন্দেহকে প্রথমবারের মতো উসকে দেয়। তিনি লিখেছেন, আমার বন্ধু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি অনুরোধ, রতন টাটার পরিবারের কাছে আমার সমবেদনা পৌঁছে দিন। তিনি ছিলেন ভারতের এক গর্বিত সন্তান এবং আমাদের দুই দেশের বন্ধুত্বের এক দৃঢ় সেতুবন্ধন।

রিপোর্টে অভিযোগ করা হয়েছে, টাটা বিশ্বমঞ্চে ভালো ইমেজ প্রতিষ্ঠার জন্য ফিলানথ্রপিক ট্রাস্ট এবং নিউইয়র্ক সিটি ম্যারাথনের স্পন্সরশিপের মতো কর্মকাণ্ড ব্যবহার করছে, যা স্পোর্টসওয়াশিং বলে আখ্যায়িত।









