ঠিক আজ থেকে ৫ বছর আগের একটি সংবাদ শিরোনাম ছিলো, বাংলাদেশি ক্রেতাদের পদচারণায় মুখর কলকাতার নিউমার্কেট! ৫ বছরের ব্যবধানে সংবাদের শিরোনাম, কলকাতায় নেই বাংলাদেশি পর্যটক, ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত। কালের পরিক্রমায় ৫ বছর হয়তো খুব বেশি সময় না। তবে স্বল্প এই সময়টাতে সম্পর্ক, রাজনীতি আর অর্থনীতিতে বদলে গেছে অনেক সমীকরণ।
এক সময় যে কলকাতার বাজার জমজমাট থাকতো বাংলাদেশি ক্রেতাদের বিপুল উপস্থিতিতে এখন সেই বাজারই ফাঁকা, ক্রেতা শূন্য। ব্যবসায়ীরা ফেলছেন দীর্ঘ নিঃশ্বাস। অনেকের দুঃশ্চিন্তায় মাথায় হাত। চলতি বছর কেনাকাটার বাজারে ওপারের এই মন্দার পেছনে একটা বড় কারণ যে রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সেটা বলা অবশ্যই বাহুল্য।
মাত্র এক বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশে ঘটে গেছে বড় পরিবর্তন। দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বন্ধ রয়েছে ভারতের ভিসা। ফলস্রুতিতে বাংলাদেশি ক্রেতারাও আসনেনি কলকাতায়। দেশের একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে দেখা যায়, চিকিৎসার ভিসা নিয়ে কলকাতায় আসা দু–চারজন বাংলাদেশি পর্যটকও হারিয়ে ফেলছেন কলকাতায় ঈদ কেনাকাটার আগ্রহ।
তবে অন্যদিকে কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে দেশের বাজারে। প্রতি বছর ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে দেশে বাণিজ্য হয় কমবেশি পৌনে দুই লাখ কোটি টাকার। চলতি বছর দেশে কেবলমাত্র কেনাকাটা নয়, এবার ঈদের ছুটিতে ২ হাজার কোটি টাকা পর্যটন বাণিজ্যের আশা করছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা।
তথ্য বলছে, সড়ক, রেল ও আকাশপথ মিলিয়ে এবার পর্যটন খাতে বাণিজ্য গত দুই বছরের চেয়ে ৫ হাজার কোটি টাকা বেড়ে ২ হাজার কোটিতে পৌঁছাবে।
এ বিষয়ে অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের (আটাব) সভাপতি আবদুস সালাম আরেফ সংবাদমাধ্যমে জানান, ঈদ মৌসুম ঘিরে গেল দুই বছরে পর্যটন বাণিজ্যে দেড় হাজার কোটি টাকার টার্গেট ধরা হয়েছিল। এবার পর্যটন বাণিজ্য ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বাড়বে। সে হিসেবে এবার ২ হাজার কোটি টাকার বেশি টার্গেট ধরা হয়েছে।
কক্সবাজারে প্রায় ৫ শতাধিক হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট প্রায় পর্যটক শূন্য থাকলেও এবার কক্সবাজারকে সাজানো হচ্ছে নতুন রঙে। সারি সারি পাহাড়, স্বচ্ছ জলের ধারা, সবুজ চা বাগানে ঢাকা মনোমুগ্ধকর সিলেটেও গত কয়েক বছর বন্যা, রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে এ বছর ঘুরে দাড়াবে নতুন করে। তবে শঙ্কার জায়গায় এখনো রয়েছে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি।
অন্যদিকে, সারা বছরের ব্যস্ত সময় পার করে ঈদের লম্বা ছুটিতে বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনাও করেন অনেকে। ২০২৪ সালে ঈদ ও ঈদ পরবর্তী ছুটিতে বিদেশ ভ্রমণে যান প্রায় ১ লাখ মানুষ। সে বছর দুবাই, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ব্যাংকক ও মালদ্বীপের যাত্রী বেশি ছিলো বলে জানায় এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ। চলতি বছর ইউরোপের পর অনেকের পছন্দ থাইল্যন্ড দুবাইয়ের মতো দেশগুলো।
এ বছর ভারতের ভিসা বন্ধ থাকায় অতিরিক্ত চাপের কারণে দেশটির ভিসা পেতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে দীর্ঘ সময়। বাংলাদেশিদের জন্য আগে থেকেই ই-ভিসা সুবিধা থাকা দেশটিতে বাংলাদেশি সাধারণ পাসপোর্টধারীদের অনলাইনে কমপক্ষে ৪৫ দিন আগে আবেদন করতে উৎসাহিত করছে দেশটি। থাইল্যান্ডে ভিসা গ্রহণে দেড় মাস লাগলেও দুবাইয়ের ভ্রমণ ভিসা মেলা বর্তমানে দুস্কর।
সময়ের সাথে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে উৎসব কেন্দ্রীক অর্থনীতির হিসেব নিকেশ বলছে, দেশের অর্থনীতির সাথে সাথে পর্যটনখাতে যতটুকু শঙ্কার মেঘ ছিলো তা ইতিমধ্যেই অনেকটা কাটতে শুরু করেছে। দেশের বাইরে কমলেও বাড়তে দেখা গেছে আভ্যন্তরীর ব্যবসা-বানিজ্য ও ভ্রমণের বহর। বিদেশ নির্ভরতা কমে এসেছে আত্মনির্ভরতার প্রবণতা।
যার ধারাবাহিকতায় সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশ শঙ্কা কাটিয়ে নতুন করে নিজেদের সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। উদ্ভাসিত হবে আত্মপরিচয়ের আপন গৌরবে। প্রত্যাশাটুকু করাই যায়।









