ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত নওর গিলন বলেছেন, হামাসের সঙ্গে তার দেশের চলমান যুদ্ধে যোগ দেওয়ার জন্য বহু ভারতীয় ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। বহু ভারতীয় আমাদের সঙ্গে সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন, এ জন্য আমি খুশি।
বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাতকারে নওর গিলন বলেছেন, ‘আমার কাছে এটা খুবই আশাপ্রদ ঘটনা, খুবই আবেগের ব্যাপার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি’র কাছ থেকে আমরা যে মাত্রার সমর্থন পেয়েছি, সেই শনিবার যখন পুরো চিত্রটাই পরিষ্কার হয়নি। তিনি বিশ্বের প্রথম নেতাদের মধ্যে একজন, যারা খুব স্পষ্ট ভাষায় নিন্দা জানিয়ে টুইট করেছিলেন, এটা আমরা কখনই ভুলব না।’
ভারতের মন্ত্রী, বড় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও তিনি সাহায্যের আশ্বাস পেয়েছেন বলেও জানান গিলন।
সাক্ষাতকার তিনি আরও বলেছেন, দূতাবাসের (ইসরায়েলি দূতাবাস) সামাজিক মাধ্যমগুলো দেখুন। খুবই আশ্চর্যজনক। সবাই আমাকে বলছে যে আমি স্বেচ্ছাসেবক হতে চাই এবং আমি ইসরায়েলের পক্ষে লড়াই করতে চাই- এই শক্তিশালী সমর্থন নজিরবিহীন। আমি স্বেচ্ছাসেবকদের (ভারতীয়দের) সাথে আরেকটি আইডিএফ (ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী) গঠন করতে পারি।’
সামাজিক মাধ্যমে ভারতে অনুষ্ঠিত ক্রিকেট বিশ্বকাপের স্টেডিয়ামে ইসরায়েলের পতাকা তুলে ধরে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থনের ডাকও দিচ্ছেন অনেক ভারতীয়। হামাসের হামলার পরেই এমনই একটি পোস্ট বেশ ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল। নিজেকে ‘সনাতনী’ বলে দাবি করা চন্দন কুমার শর্মা সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ লিখেছেন, তিনি ‘ইসরায়েলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। ভারত সরকার আদেশ দিলে ভারতের প্রতিটি জাতীয়তাবাদী হিন্দু ইসরায়েলে গিয়ে তাদের সমর্থনে যুদ্ধ করবে। তার পর থেকে এ ধরনের আরও পোস্ট দেখা যাচ্ছে সামাজিক মাধ্যমগুলোতে।
বিজেপি নেতা ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক বিমল শঙ্কর নন্দ বলেছেন, অনেকে ইসরায়েলের হয়ে যুদ্ধে যেতে চাইছে, আর তারা হিন্দুত্ববাদের অথবা বিজেপি সমর্থক কী না, তা নিয়ে আমার দল এখনই কোনও মতামত দিতে পারবে না। কিন্তু একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র হিসাবে আমি বলতে পারি যে, ইসরায়েলের পাশে যে বহু ভারতীয় দাঁড়াচ্ছেন, তার দু’টো দিক আছে। প্রথমত হামলার ভয়াবহতার যে ছবি দেখা গেছে, সেটা বিশ্বের বহু দেশের সঙ্গে ভারতের নাগরিকদেরও নাড়িয়ে দিয়েছে। আর দ্বিতীয়ত ইহুদীদের প্রতি একটা সহানুভূতিও আছে ভারতীয়দের।
বিমল শঙ্কর নন্দ আরও বলেন, ‘ইহুদীরা তো হলোকস্টের মোকাবিলা করেছে। তারা সবথেকে বেশি অত্যাচারিত হয়েছে গত শতাব্দীতে। আবার ভারত এবং ইসরায়েল দু’টোই সুপ্রাচীন সভ্যতা। সেদিক থেকেও ভারতের মানুষদের একটা বড় অংশ ইসরায়েলের সঙ্গে একাত্মতা অনুভব করে।’








