আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় কর্মীর মামলা, চাকরি রাখতে অর্থ আদায়ের অভিযোগ

অমেরিকান পতাকা হাতে একজন ব্যক্তির ছবি, যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান বিষয়ক আলোচনা. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

একজন ব্যক্তির হাতে অমেরিকান পতাকা ধরা, যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় কর্মীদের মামলা ও চাকরি সংক্রান্ত বিষয়।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন

যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত একজন ভারতীয় এইচ-১বি ভিসাধারী কর্মী তার নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে প্রায় এক লাখ মার্কিন ডলার আদায়ের অভিযোগ এনে মামলা করেছেন। টেক্সাসে দায়ের করা ওই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, চাকরি ও অভিবাসন-সংক্রান্ত বৈধতা বজায় রাখতে তাকে জোরপূর্বক অর্থ পরিশোধে বাধ্য করা হয়েছিল।

এনডিটিভি জানিয়েছে, মামলার বাদী ঋষিকেশ রাজ মিসালা অভিযোগ করেছেন, তার ভারতীয়-আমেরিকান নিয়োগকর্তা সাই জিতেন্দর কালাগ্রা বিভিন্ন সময় তার কাছ থেকে অর্থ দাবি করেন। এসব দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুললে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)-এর কাছে অভিযোগ করার হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি তার বাবার বিরুদ্ধেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মামলার নথি অনুযায়ী, ঋষিকেশ রাজ মিসালা ছাত্র ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ২০২৩ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। পরে তিনি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি পান, যেখানে এইচ-১বি ভিসার স্পনসরশিপের সুযোগ ছিল। সাধারণত এই ভিসা কর্মসূচির মাধ্যমে বিদেশি দক্ষ পেশাজীবীরা যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার সুযোগ পান এবং ভবিষ্যতে স্থায়ী বসবাসের আবেদন করার পথও তৈরি হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, টেক্সাসভিত্তিক কোম্পানিটিতে যোগ দেওয়ার পর মিসালাকে বেঞ্চে রাখা হয়, অর্থাৎ তার জন্য কোনো সক্রিয় প্রকল্প বা কাজ বরাদ্দ করা হয়নি। এরপরও চাকরির কাগজপত্র সচল রাখা এবং এইচ-১বি ভিসার বৈধতা বজায় রাখার জন্য তাকে বড় অঙ্কের অর্থ দিতে বাধ্য করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

মামলায় আরও বলা হয়, অতিরিক্ত অর্থ প্রদান না করলে কোম্পানি তার বেতন-সংক্রান্ত নথিপত্র দিতে অস্বীকৃতি জানায়। অথচ চাকরি পরিবর্তন, ভিসা নবায়ন বা অভিবাসন বিধি মেনে চলার প্রমাণ হিসেবে এসব নথি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নথি অনুযায়ী, অভিবাসন মর্যাদা হারানোর ভয় দেখিয়ে চাপ প্রয়োগের ফলে মিসালা শেষ পর্যন্ত প্রায় ৮ হাজার ৮০০ ডলার নগদ অর্থ পরিশোধ করেন।

মামলাটি পরিচালনাকারী অভিবাসন আইন সংস্থা বানিয়াস ল’ অভিযোগ করেছে, এ ঘটনায় শ্রম পাচার, জোরপূর্বক শ্রম গ্রহণ এবং নথিপত্র আটকে রাখার মতো গুরুতর অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে।

তাদের দাবি, বকেয়া মজুরি ও আদায়কৃত অর্থ মিলিয়ে অভিযুক্তদের কাছে মিসালার পাওনা কমপক্ষে ৯৭ হাজার ২৪৮ দশমিক ৯৪ মার্কিন ডলার।

এদিকে, এই ঘটনা আবারও যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচিতে বিদেশি কর্মীদের ঝুঁকি ও নির্ভরশীলতার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোতে বহুল ব্যবহৃত এ কর্মসূচির সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগীদের মধ্যে রয়েছেন ভারতীয় পেশাজীবীরা।

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থার (ইউএসসিআইএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ অর্থবছরে অনুমোদিত এইচ-১বি আবেদনের ৭১ শতাংশই ছিল ভারতীয় বংশোদ্ভূত আবেদনকারীদের।

বিষয়:এইচ-১বিভারতভিসাযুক্তরাষ্ট্র
প্রতিবেদক

চ্যানেল আই অনলাইন

চ্যানেল আই অনলাইন

আরও →

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…