ভারতের ২৫ বর্ষী টেনিস খেলোয়াড় রাধিকা যাদবকে গুলি করে হত্যা করেছেন বাবা দীপক যাদব। পড়শীরা ৪৯ বর্ষী দীপককে মেয়ের অর্থে নির্ভর থাকায় কটাক্ষ করতেন, সইতে না পেরে তিনি কন্যার প্রাণই কেড়ে নিয়েছেন বলে খবর। রাধিকা ইন্টারন্যাশনাল টেনিস ফেডারেশনের (আইটিএফ) অধীনে একক এবং দ্বৈত প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন, পরে কোচিং শুরু করেছিলেন।
রাধিকা পরিবারসহ ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের গুরুগ্রামে থাকতেন। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে জানানো হয় গুলিবিদ্ধ হাওয়া এক তরুণীর মৃতদেহ আনা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে তরুণীর চাচা কুলদীপ যাদবকে দেখতে পান। রাধিকার বাবা-মা হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন না, জানায় পুলিশ।
গুরুগ্রাম সেক্টর ৫৬ থানায় নিহতের চাচা একটি এফাআইআর করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, দীপক মেয়ের টেনিস একাডেমি চালানো নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন, বারবার নিষেধ করার পরও রাধিকা সেটি বন্ধ করেননি।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, রাধিকা ও বাবার মধ্যে একটি ইনস্টাগ্রাম রিল নিয়ে তর্ক-বিতর্ক চরমে ওঠে এবং সেটির জেরে দুঃখজনক ঘটনাটি ঘটে।
ভারতের গণমাধ্যমে খবর, দীপক দীর্ঘদিন মনঃক্ষুণ্ণ ছিলেন, কারণ স্থানীয়রা মেয়ের অর্থে চলার কারণে তাদের কটাক্ষ করতো। তারা বলত, বাড়ি চলছে মেয়ের অর্থে দীপক কিছু করে না। এরকারণে তিনি রাধিকাকে আগেই একাডেমি বন্ধ করতে বলেছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, দীপকের আয়ের উৎস ছিল তার মালিকানাধীন দুটি ছোট সম্পত্তি থেকে ভাড়া।
কুলদীপ পুলিশকে বলেছেন, ‘সকাল সড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ বিকট আওয়াজ পাই। উপরে যেয়ে দেখি রাধিকা রান্নাঘরে নিস্তেজ হয়ে পড়ে আছে। অন্য ঘরে একটা পিস্তল পড়ে ছিল। আমার ছেলেকে সঙ্গে করে দ্রুত রাধিকাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই।’
ঘটনার সময় রধিকার মা মঞ্জু যাদব বাড়িতে ছিলেন, তিনি কোন বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি বলেছেন অসুস্থ ছিলেন এবং ঘরের দরজা লাগিয়ে শুয়ে ছিলেন।
রাধিকা ক্যারিয়ারে আইএফটি পর্যায়ে ৩৬টি একক ও ৭টি দ্বৈত ম্যাচ খেলেছেন। শেষবার একক খেলেছেন ২০২৪ সালের মার্চে, দ্বৈত খেলেছেন ২০২৩ সালের জুনে। একবছরের বেশি সময় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলেননি। গুরুগ্রামে নিজ একাডেমিতে কোচিং করাতেন, যা নিয়ে বাবার সাথে বিরোধ হয়।









