আরও একটি উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই উপহার দিল ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ। শেষ ওভারে ছড়াল রোমাঞ্চ। শেষে এক বল হাতে রেখে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের ৫ উইকেটে হারিয়েছে পাকিস্তান। আগে ব্যাট করা ভারত তুলেছিল ৭ উইকেটে ১৮১ রান।
এবারের এশিয়া কাপে গ্রুপপর্বে প্রথম দেখায় জিতেছিল ভারত। সুপার ফোর পর্বে টিম ইন্ডিয়ার বিপক্ষে তার শোধ তুলল পাকিস্তান।
রোববার ১৮২ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নামা পাকিস্তান ২২ রানে প্রথম উইকেট হারায়। অধিনায়ক বাবর আজমের উইকেট তোলেন এশিয়া কাপে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা রবি বিষ্ণোই। মিড উইকেটের উপর দিয়ে মারতে ব্যর্থ হন বাবর। বল রোহিতের হাতে তুলে দিয়ে ২ চারে ১৪ রানে সাজঘরে ফেরেন।
পাওয়ার প্লে শেষে ৬ ওভারে পাকিস্তানের স্কোর দাঁড়ায় ১ উইকেটে ৪৪ রান। ভারত পাওয়ার প্লেতে ১ উইকেটে ৬২ রান তুলেছিল।
দ্বিতীয় উইকেটে ফখর জামানকে দিয়ে লাগাম টানার চেষ্টা করেন ওপেনার মোহাম্মদ রিজওয়ান। দুজনে ৪১ রানের জুটি গড়েন। যুজবেন্দ্র চাহালের বলে সোজা ব্যাটে পাওয়ার শট নিতে পারেননি ফখর। লং অনে কোহলির হারে ধরা পড়েন, ২ চারে ১৫ রান তার।
শেষ ১০ ওভারে পাকিস্তানের দরকার ছিল ১০৬ রান, হাতে ছিল ৮ উইকেট।
এসেই আগ্রাসী ব্যাটিং করতে থাকেন মোহাম্মদ নেওয়াজ। রানের গতি রাখেন সচল। অন্যদিকে ফিফটি তুলে নেন রিজওয়ান। তৃতীয় উইকেটে দুজনে ভারতের বোলারদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলে দেন। ১৫তম ওভারে চাহাল ১৬ রান খরচ করলে জয়ের জন্য পাকিস্তানের সমীকরণ দাঁড়ায় ৩০ বলে ৪৭ রান।
২০ বলে ৬ চার ও ২ ছক্কায় ৪২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলা নেওয়াজের উইকেট তুলে টিম ইন্ডিয়ার ডেরায় স্বস্তি ফেরান ভুবনেশ্বর কুমার। তার বাউন্সারে মারতে গিয়ে লং অফে দীপক হুদার তালুবন্দি হন নেওয়াজ। ভাঙে ৭৩ রানের জুটি।
পাকিস্তানের শেষ ২৪ বলে দরকার ছিল ৪৩ রান, হাতে ৭ উইকেট। হার্দিক পান্ডিয়ার করা ১৭তম ওভারের পঞ্চম বলে লং অফে থাকা সূর্যকুমার যাদবের সহজ ক্যাচ হন রিজওয়ান। জমে ওঠে উত্তেজনা। ৫১ বলে ৬ চার ও ২ ছক্কায় ৭১ রানে রিজওয়ান ক্রিজ ছাড়েন।
বিষ্ণোইয়ের করা ১৮তম ওভারটি ছিল ঘটনাবহুল। তার অফ স্টাম্পের বেশ বাইরের এক বলে ওয়াইডের সঙ্কেত দেন বাংলাদেশি আম্পায়ার মাসুদুর রহমান মুকুল। উইকেটরক্ষক রিশভ পান্টের চাওয়া মতো রিভিউ নেন রোহিত। চোখের দেখায় বলটি ব্যাট এবং গ্লাভসে না লাগলেও স্নিকোতে অদ্ভুত কারণে আকাবাঁকা গ্রাফের দেখা মেলে। অনেকক্ষণ সময় নিয়ে তৃতীয় আম্পায়ার নট আউট দেন।
পরের বলেই রানের খাতা না খোলা আসিফ আলীর সহজ ক্যাচ ফেলেন আর্শদ্বীপ সিং।
শেষ পর্যন্ত আসিফের ক্যাচ মিসের চড়া মূল্য দেয় ভারত। ১৯তম ওভারে দুই ওয়াইড ও তিন বাউন্ডারি হজমে ভুবনেশ্বর খরচ করেন ১৯ রান। শেষ ওভারে পাকিস্তানের জয়ের জন্য দরকার পড়ে কেবল ৭ রান। আর্শদ্বীপ শেষ ওভারে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন, চতুর্থ বলে ৮ বলে ২ চার ও এক ছক্কায় ১৬ রান করা আসিফকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন।
শেষ দুই বলে পাকিস্তানের প্রয়োজন হয় ২ রান। পঞ্চম বলে ফুলটস দেন আর্শদ্বীপ। সোজা ব্যাটে শট খেলে দ্রুত ২ রান তুলে পাকিস্তানের জয় নিশ্চিত করেন ইফতিখার আহমেদ।
আগে দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ওভার থেকেই আগ্রাসী শুরু করেন ভারতের দুই ওপেনার। উদ্বোধনী জুটি থেকে আসে ৫৪ রান। ১৬ বলে ২৮ করে রোহিত আউট হন হারিস রউফের বলে ক্যাচ দিয়ে।
পার্টনারের বিদায়ের পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি লোকেশ রাহুলও। সমান ২৮ রান করে কাটা পড়েছেন শাদাব খানের ঘূর্ণিতে।
চার মেরে রানের খাতা খোলা সূর্যকুমার যাদব ফেরেন ১৩ রানে। ১২ বলে ১৪ রান করা রিশভ পান্টকে ফিরিয়ে দেন শাদাব খান। আগের ম্যাচে দুর্দান্ত পারফর্ম করা হার্দিক পান্ডিয়ার ব্যাটও ছিল নিরব। স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ না করেই হাসনাইনের বলে ফেরেন তারকা অলরাউন্ডার।
উইকেটের একপাশে যখন কেউই থিতু হতে পারছিলেন না, আরেক প্রান্ত আগলে রানের খাতা সচল রাখেন কোহলি। দীপক হুদাকে সাথে নিয়ে ষষ্ঠ উইকেটে যোগ করেন ৩৭ রান।
৪৪ বলে ৬০ রান করে কোহলি আউট হন শেষ ওভারে রউফের বলে। শেষ ২ বলে ২ চার মেরে দলীয় রানটা ১৮১তে নিয়ে যান এশিয়া কাপে প্রথমবার খেলতে নামা রবি বিষ্ণই।
পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নিয়েছেন শাদাব খান। একটি করে উইকেটে গেছে হাসনাইন, নাসিম, হারিস ও নেওয়াজের ঝুলিতে।







