কানাডায় শিখ নেতা হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে তিন ভারতীয়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কানাডার অ্যালবার্টা প্রদেশের এডমন্টন শহর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে শুক্রবার (৩ মে) জানিয়েছেন কানাডার ইন্টিগ্রেটেড হোমিসাইড ইনভেস্টিগেশন টিমের সদস্য অফিসার ইনচার্জ মনদীপ মুকার। তবে এই বিষয়ে কোন কিছু জানেন না বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর।
গ্রেপ্তারকৃত তিনজন হলো- করণ ব্রার (২২), কমলপ্রীত সিং (২২) এবং করণপ্রীত সিংকে (২৮)
তাদের বিরুদ্ধে খুনের মামলার আবেদন করা হয়েছে। গত বছর সারেতে নিজ্জরকে হত্যার ঘটনায় ওই তিনজন বিভিন্ন ভূমিকা পালন করেছিলেন। সেই সংক্রান্ত কোনও প্রমাণ না দিলেও কানাডার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে তদন্ত এখনও চলছে।
অফিসার ইনচার্জ মনদীপ মুকার বলেন, ‘এখানেই তদন্ত শেষ হচ্ছে না। আমি জানি যে এই ঘটনায় অন্যান্যরা যুক্ত আছে এবং হত্যাকাণ্ডে ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাদের প্রত্যেককে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করতে বদ্ধপরিকর আমরা।’
অন্যদিকে তিনজনের গ্রেপ্তার নিয়ে মুখ খুললেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর। মন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, খলিস্তানি জঙ্গি নিজ্জরের হত্যাকাণ্ড নিয়ে কানাডায় যা হচ্ছে, সেটার বেশিরভাগই সেই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কারণে হচ্ছে। সেইসব বিষয়ের সঙ্গে ভারতের ছিঁটেফোটাও যোগসূত্র নেই বলে জানিয়ে দিয়েছেন জয়শংকর।
সেইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, তিনজনের গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গে কানাডার পক্ষ থেকে ভারতকে কিছুই জানানো হয়নি।
গত শুক্রবার জয়শংকরকে প্রশ্ন করা হয় যে কেন ভারতের সমালোচনা করছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। যিনি নিজ্জরের মৃত্যুর ঘটনার ভারতকে ইঙ্গিত করেছিলেন। সংবাদসংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই প্রশ্নের জবাবে জয়শংকর জানান, যে কানাডার গণতন্ত্রকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে খলিস্তানপন্থী একটি অংশ। লবি তৈরি করেছে। পরিণত হয়েছে ভোটব্যাঙ্কে। কানাডার শাসক দলের আপাতত সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। তাই কয়েকটি দল খলিস্তানপন্থীদের ওপর নির্ভর করে টিকে আছে।
জয়শংকর বলেন, ‘আমরা কানাডাকে বারবার বলেছি যে এইসব লোকেদের ভিসা দেবেন না, আইনি স্বীকৃতি বা রাজনৈতিক সুযোগ দেবেন না। যা কানাডার ক্ষেত্রে সমস্যার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের জন্যও হয়েছে। আমাদের সম্পর্কের জন্যও হয়েছে।’
সেইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের নিয়ে কানাডা আপাতত কোনও তথ্য দেয়নি। তবে তিনি যা শুনেছেন, তাতে ওই সন্দেহভাজন তিনজনের নাকি ভারতে গ্যাং-যোগের ইতিহাস আছে।









