চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে প্রথম ম্যাচে হারিয়ে মানসিকভাবে চাঙ্গা ছিল ভারত। অপেক্ষাকৃত দুর্বল দল হংকংয়ের সঙ্গে নিজেদের পার্থক্য প্রমাণ করে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সুপার ফোরে তাদের যাওয়াটা প্রত্যাশিতই ছিল। সেটাই হয়েছে। ৪০ রানে জিতে গ্রুপ-এ থেকে সুপার পর্বে গেছে রোহিত শর্মার দল।
বুধবার দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টসে জিতে ফিল্ডিং নেয় হংকং। আগে ব্যাট করা ভারত ২ উইকেটে ১৯২ রান তোলে। পরে নিজেদের সামর্থ্যের সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করা বড় মঞ্চে খেলার কম অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হংকং ৫ উইকেটে ১৫২ রান পর্যন্ত যেতে পেরেছে।
১৯৩ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নামা হংকং ১২ রানে প্রথম উইকেট হারায়। আর্শদ্বীপ সিংয়ের বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে ফাইন লেগে আভেষ খানের তালুবন্দি হন ৯ রান করা ওপেনার ইয়াসিম মুর্তাজা।
বাবর হায়াতের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে স্কোরবোর্ডে ২ উইকেটে ৫১ রান তুলে ফেলে হংকং। এশিয়া কাপের বাছাইপর্বে ২৬ বলে ৩৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে আরব আমিরাতের বিপক্ষে জয়ে ভূমিকা রেখে দলকে মূল পর্বে নিয়েছিলেন হায়াত।
দ্বিতীয় উইকেটে দ্রুত ৩৯ রান যোগ করে টিম ইন্ডিয়ার কপালে খানিক ভাঁজ আনতে বাধ্য করে হায়াত ও অধিনায়ক নিজাকাত খানের জুটি। ষষ্ঠ ওভারের শেষ বলে আর্শদ্বীপের ফ্রি হিট ডেলিভারিতে হায়াত করে বসেন ভুল। তার নেয়া শটে বল পয়েন্টে থাকা থাকা রবীন্দ্র জাদেজার হাতে সরাসরি চলে যাওয়ার পরও দৌড়ে রান নেয়ার চেষ্টা করেন। নিজাকাতও তার ডাকে সাড়া দেন। বল হাতে জমানো মাত্র সরাসরি থ্রোয়ে স্টাম্পে আঘাত হানেন জাদেজা। তৃতীয় আম্পায়ার আউটের সংকেত দিলে ১০ রানে আউট নিজাকাত।
৭ থেকে ১০ ওভারের ভেতর কোনো উইকেট না হারালেও রানের গতি সচল রাখতে পারেনি হংকং। এই ৪ ওভারে ১৪ রানের বেশি তারা নিতে পারেনি। শুরু থেকে আগ্রাসী ব্যাটিং করলেও পরে খোলসে ঢুকে পড়েন হায়াত। ১২তম ওভারে জাদেজার বলে কভারের উপর দিয়ে ব্যাট চালাতে গিয়ে আভেষের হাতে ধরা পড়েন। ৩৫ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় থামে তার ইনিংস। দলের রান তখন ৭৪।
চতুর্থ উইকেটে ৩১ রানের জুটি গড়েন কিঞ্চিত শান ও আইয়াজ খান। ১২ রান করে আভেষের বলে আইয়াজ বোল্ড হলে জুটি ভাঙে। এরপর ২৮ বলে ২ চার ও এক ছক্কায় ৩০ রানের ইনিংস খেলা কিঞ্চিতের উইকেট পান ভুবনেশ্বর কুমার।
ষষ্ঠ উইকেটে আস্থার সঙ্গে ব্যাটিং করে দ্রুত ৩৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে হংকং। জিশান আলী ১৭ বলে ২ চার ও এক ছক্কায় ২৬ ও উইকেটরক্ষক ব্যাটার স্কট ম্যাককেনি ৮ বলে ২ চার ও এক ছক্কায় ১৬ রানে অপরাজিত থাকেন।
আগে হংকং কিপটে বোলিং দিয়ে শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত তা ধরে রাখতে পারেনি। বিরাট কোহলি ও সূর্যকুমার যাদবের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহ পায় ভারত।
পঞ্চম ওভারে প্রতিপক্ষ অধিনায়ককে ফিরিয়ে প্রথম সাফল্য এনে দেন আয়ুশ শুক্লা। ১৩ বলে ২১ রান করে রোহিত শর্মা কাটা পড়েন শুক্লার স্লোয়ারে।
দ্বিতীয় উইকেটে কেএল রাহুলের সাথে ৫৬ রানের জুটি গড়েন বিরাট কোহলি। ৩৯ বলে ৩৬ রান করে রাহুল আউট হলে ভাঙে জুটি। চার নম্বরে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেছেন সূর্যকুমার যাদব। সঙ্গ দিয়েছেন কোহলি।
তৃতীয় উইকেটে এই দুই ব্যাটার মিলে গড়েছেন ৯৮ রানের জুটি। ২৬ বলে ৬৮ রানের জড়ো ইনিংস খেলে মূল নায়ক সূর্যকুমার যাদব। ৪৪ বলে ৫৯ রান করে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন কোহলি।
হারুন আরশোদের শেষ ওভারে ৪ ছক্কায় ২৬ রান নিয়ে ভারতের স্কোরকে ২ উইকেটে ১৯২-তে টানেন যাদব। ডানহাতি ব্যাটারের আগ্রাসনে প্রথম দশ ওভারে মাত্র ৭০ রান করা দলটি শেষ ১০ ওভারে করে ১২২ রান।








