ঘরের মাঠে পিচের সুবিধা কাজে লাগাতে স্পিন আধিক্যে একাদশ সাজিয়েছিল ভারত। হায়দরাবাদে প্রথম ইনিংসে ভারতীয় অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান দিয়েছিলেন একাদশে থাকা বিশেষজ্ঞ তিন স্পিনার। তবে উল্টো কচুতে এবার গাল ধরেছে স্বাগতিকদের। ইংল্যান্ডের অনভিজ্ঞ স্পিনে কুপোকাত হয়েছে ভারত, ২৮ রানের জয় পেয়েছে সফরকারীরা। এ জয়ে পাঁচ ম্যাচ সিরিজের প্রথমটি জিতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটে নেমে জো রুট-টম হার্টলি-জ্যাক লিচদের স্পিন জাদুতে নাস্তানাবুদ হয়েছেন রোহিত শর্মা-লোকেশ রাহুলরা। অভিষিক্ত বাঁহাতি স্পিনার হার্টলি ৬৩ রান খরচায় ক্যারিয়ার সেরা ৭ উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া রুট ও লিচ নিয়েছেন একটি করে উইকেট।
১১৯ রানে ৭ উইকেট হারানোর পর অষ্টম উইকেট ৫৭ রানের জুটি গড়েন অশ্বিন ও শ্রীকর ভরত। দিনের খেলা শেষ হওয়ার মাত্র ২ ওভার আগে হার্টলির স্পিনে বোল্ড হন ভরত, করেন ২৮ রান। দিনের শেষ ওভারে বড় শর্ট খেলতে গিয়ে স্ট্যাম্পিং হন অশ্বিন। তার ব্যাট থেকে আসে ২৮ রান।
জয়ের জন্য ভারতের ৫৪ রান ও ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল এক উইকেট। এ সময় দিনের খেলার নির্ধারিত ওভার শেষ হয়ে যায়। আম্পায়ার স্টোকসের সাথে কথা বলে দিনের খেলা আরও আধা ঘণ্টা বাড়িয়ে দেন। এতে ৮ ওভার খেলা বেড়ে যায়। শেষ উইকেটে হিসেবে মোহাম্মদ সিরাজকে আউট করে উল্লাসে মেতে উঠে ইংল্যান্ড।
হায়দরাবাদে টসে জিতে প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নামে ইংল্যান্ড। রবীন্দ্র জাদেজা-রবীচন্দন অশ্বিন-অক্ষর প্যাটেলের ঘূর্ণিতে বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারেননি, ২৪৬ রানে অলআউট হয় থ্রি-লায়ন্সরা। সর্বোচ্চ ৭০ রানের ইনিংস খেলেন অধিনায়ক বেন স্টোকস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৭ রানের ইনিংসটি আসে জনি বেয়ারস্টো থেকে। জাদেজা-অশ্বিন নেন ৩টি করে উইকেট। ২টি করে উইকেট নেন অক্ষর ও বুমরাহ।
জবাবে নেমে শুরু থেকেই তাণ্ডব চালাতে শুরু করেন যশ্বী জয়সওয়াল। তার ৮০, লোকেশ রাহুলের ৮৬ এবং জাদেজার ৮৭ রানে ৪৩৬ রানের পাহাড় গড়ে অলআউট হয় ভারত। ইংল্যান্ডের পক্ষে পার্টটাইম অফস্পিনার ডানহাতি রুট নেন ৪ উইকেট। এছাড়া অভিষিক্ত হার্টলি ও রেহান আহমেদ নেন ২টি করে উইকেট।
দ্বিতীয় ইনিংসে ১৯০ রানে পিছিয়ে থেকে ইনিংস হারের শঙ্কা থাকলেও ব্যাট করতে নেমে দারুণ শুরু করে ইংল্যান্ড। তিনে নামা অলি পোপ একাই লড়ে যান, খেলেন ১৯৬ রানের অনবদ্য ইনিংস। ডাবল থেকে ৪ রান দূরে থেকে বুমরাহ’র বলে বোল্ড হওয়ার আগে দলকে শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করান। ৪৭ রানের ইনিংস খেলেন বেন ডাকেট। বুমরাহ নেন ৪ উইকেট। এছাড়া অশ্বিন ৩টি এবং জাদেজা নেন ২ উইকেট।







