মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য ঢাকা থেকে ভারতকে যে চিঠি পাঠানো হয়েছিল, সেই চিঠি ভারত সরকারে হাতে পৌঁছেছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটি।
আজ বুধবার (২৪ জানুয়ারি) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
জয়সওয়াল বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশের কাছ থেকে নতুন করে একটি অনুরোধ এসেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর এই অনুরোধ পাঠানো হয়েছে।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, ‘‘হ্যাঁ, আমরা একটি অনুরোধ পেয়েছি। এই অনুরোধটি চলমান বিচারিক ও অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।’’
তিনি বলেন, ‘‘আমরা বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণ—বিশেষ করে শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ এবং এ বিষয়ে সব পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে যোগাযোগ চালিয়ে যাবো।’’
এদিকে আজ দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, ভারতে পাঠানো চিঠির উত্তর এখনো আসেনি। এত তাড়াতাড়ি উত্তর আসবে বলে আশাও করে না ঢাকা।
কোন প্রক্রিয়ায় ভারতে চিঠি পাঠানো হয়েছে জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন বলেন, নোট ভারবাল (চিঠি) আমাদের মিশনের মাধ্যমে ওদের (ভারতের) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। কোনো উত্তর আসেনি। এত তাড়াতাড়ি উত্তর আশাও করি না আমরা।
উপদেষ্টার জবাবের পরিপ্রেক্ষিতে এক সাংবাদিক জানতে চান- উত্তর এত তাড়াতাড়ি আশা করেন না কেন? জবাবে তিনি বলেন, এত তাড়াতাড়ি উত্তর, আমি তো আগের চিঠিরই উত্তর পাইনি এখনো। কাজেই এটা একেবারে কালকে বা এক সপ্তাহের মধ্যে উত্তর দিয়ে দেবে, এটা আমি প্রত্যাশা করি না। তবে আমরা আশা করি যে, এটার উত্তর আমরা পাবো। এক সপ্তাহের মধ্যে উত্তর এসে যাবে এটা আমি প্রত্যাশা করি না।
উল্লেখ্য, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার রায়ের আগেও তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য দিল্লিকে একাধিকবার চিঠি দিয়েছিল ঢাকা, কিন্তু সেই চিঠিগুলোর কোনো জবাব আসেনি। এবার রায়ের পর আবারও একই অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়।









