মঙ্গলবার (৫ মার্চ) ঢাকার লালমাটিয়ায় আনুষ্ঠানিক যাত্রা করলো গ্যালারি ‘ভূমি’। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এদিন শুরু হয় বাংলাদেশের বরেণ্য চিত্রশিল্পীদের শিল্পকর্ম নিয়ে ‘আর্টিফায়িং দ্য সোল’ শিরোনামে একটি দলীয় চিত্রপ্রদর্শনী।
আয়োজনে স্বাগত বক্তব্যে ভূমির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী প্রধান সাইফুর রহমান লেনিন বলেন, “ভূমি শুধু গ্যালারি নয়, মূলত একটি সংগঠন। এই গ্যালারি শিল্প-সংস্কৃতি চর্চার ধারাবাহিক প্রকাশের প্ল্যাটফর্ম।”
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, বিশেষ অতিথি ছিলেন বরেণ্য চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলাম, শিল্পী বীরেন সোম। অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, শিল্পী যে হতে পারলো না, সেও কিন্তু শিল্পের ভালো সমঝদার হতে পারে। লেনিন তেমনই এক শিল্পের সমঝদার। ওর মধ্যে শিল্পের প্রতি ভালোবাসা আছে বলেই এমন একটি সুন্দর কাজ সে করে চলেছে। চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলাম বলেন,“শিল্প তো নিত্যদিনের পণ্য না যে এটা মানুষ সব সময় কিনবে। শিল্প নিয়ে কাজটা খুব চ্যালেঞ্জিং।” এসময় এমন উদ্যোগের প্রশংসা করেন তিনি।
শিল্পী বীরেন সোম বলেন, ২০০৯ সাল থেকেই আমি লেনিনকে চিনি। তার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। আশা করি ‘ভূমি’ শিল্পীদের জন্য নতুন একটা স্পেস হবে।
ভূমির প্রতিষ্ঠাতা সাইফুর রহমান লেনিন বলেন, “শুরু থেকেই আমাদের সকল কর্মকাণ্ডে সাধ্যমত দেশীয় শিল্পের বিভিন্ন মাধ্যমের সমন্বয় ও বিন্যাস ঘটানোর চেষ্টা করেছি। দীর্ঘদিন ধরে চিত্রকলা বিষয়ক ছোট-বড় বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে সংযুক্তি থেকেই একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসাবে আত্মপ্রকাশের এই প্রয়াস।”
এসময় তিনি ‘ভূমি পাঠশালা’ নামে শিগগির একটি স্কুল চালু করার কথাও জানান। যেখানে বাচ্চারা তাদের ইচ্ছেমত খেলার ছলে প্রকৃতির সান্নিধ্যে ঘুরে ফিরে চারুকারুর নানা বিষয়ে ব্যবহারিক শিক্ষা গ্রহণ করবে।
আগামি দিনে ‘ভূমি’র কর্মপরিকল্পনা জানিয়ে লেনিন বলেন, “এই সময়ে গ্যালারি করা আসলে দুঃসাহসের কাজ। এ যাত্রায় সবার যে ভালোবাসা পেয়েছি, তা কাজে লাগাতে চাই। বিশ্বজুড়ে এখন ছবির ডিজিটাল মার্কেট গড়ে উঠছে। সেই জায়গায় আমরা পিছিয়ে আছি। আমরা একটা দক্ষ আইটি টিমকে সাথে নিয়ে এই কাজটা করার পরিকল্পনা করেছি।”

এদিকে ভূমিতে শুরু হওয়া ‘আর্টিফায়িং দ্য সোল’ শীর্ষক প্রদর্শনী চলবে ১১ মার্চ পর্যন্ত। প্রতিদিন দুপুর ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। দলীয় চিত্রপ্রদর্শনীর অংশগ্রহণকারী শিল্পীরা হলেন- সমরজিৎ রায় চৌধুরী, রফিকুন নবী, মনিরুল ইসলাম, হামিদুজ্জামান খান, আব্দুস শাকুর শাহ, বীরেন সোম, আবুল বারক আলভী, অলকেশ ঘোষ, মনসুর উল করিম, তরুণ ঘোষ, নাইমা হক, মোহাম্মদ ইউনুস, নাসিম আহমেদ নাদতী, জামাল আহমেদ, রেজাউন নবী, রণজিৎ দাস, সমর মজুমদার, আহমেদ সামসুদ্দোহা, আইভি জামান, শিশির ভট্টাচার্য, শেখ আফজাল, কনক চাঁপা চাকমা ও মোহাম্মদ ইকবাল।







