সরকারি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদিমদের জন্য গ্রেডভিত্তিক বেতন কাঠামো নির্ধারণ করে নতুন মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০২৫ প্রকাশ করেছে সরকার।
সোমবার বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় এ নীতিমালা প্রকাশিত হয়। দেশের প্রখ্যাত আলেম-ওলামা, ইমাম ও খতিবদের সঙ্গে একাধিক মতবিনিময় সভা শেষে এটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
নীতিমালা অনুযায়ী, সিনিয়র পেশ ইমাম ৫ম, পেশ ইমাম ৬ষ্ঠ ও ইমাম ৯ম গ্রেডে, প্রধান মুয়াজ্জিন ১০ম, মুয়াজ্জিন ১১তম, প্রধান খাদিম ১৫তম ও খাদিম ১৬তম গ্রেডে বেতন পাবেন। খতিবদের বেতন চুক্তিপত্র অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। আর্থিকভাবে অসচ্ছল মসজিদের ক্ষেত্রে বেতন সামর্থ্য অনুযায়ী নির্ধারণ করা যাবে।
নীতিমালায় কর্মীদের নিয়োগ, ছুটি, আবাসন ও অবসরকালীন সুবিধা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। মাসিক সঞ্চয় ও চাকরি সমাপনান্তে এককালীন সম্মাননা প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে। প্রতিমাসে সর্বোচ্চ চারদিন সাপ্তাহিক ছুটি, ২০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি এবং প্রতি ১২ দিনে একদিন অর্জিত ছুটি মসজিদে কর্মীদের জন্য নির্ধারিত হয়েছে।
সরকারি মসজিদ ব্যতীত অন্যসকল মসজিদের ক্ষেত্রে অনুসরণীয় বলে জানানো হয়েছে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সাত সদস্যবিশিষ্ট বাছাই কমিটি থাকা বাধ্যতামূলক এবং নিয়োগপত্রে বেতন-ভাতা, দায়িত্বসহ অন্যান্য বিষয় উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। এছাড়া, মসজিদে নিরাপত্তা প্রহরী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। নারীদের জন্য পৃথক নামাজের স্থান ব্যবস্থা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সংখ্যা ১৫ জন নির্ধারণ করা হয়েছে, তবে মসজিদের আয়, আয়তন ও অবস্থান অনুযায়ী কম-বেশি করা যাবে।
চাকরির বিরোধ বা জটিলতা হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার/সিটি কর্পোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করা যাবে। জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি নীতিমালা বাস্তবায়নে কোনো সমস্যা সমাধান করবে।
২০০৬ সালের মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা এখন নতুন নীতিমালার মাধ্যমে বাতিল করা হয়েছে।









