যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্সিয়াল ডিবেটে অংশ নিয়েছিলেন প্রধান দুই প্রতিপক্ষ জো বাইডেন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডিবেটে ট্রাম্প থেকে অনেকটাই পিছিয়ে ছিলেন বাইডেন। এরপর থেকে বাইডেনকে নিয়ে সংশয় তৈরি হয় তারই দলের ভিতরেই। নির্বাচনের প্রার্থীপদ থেকেও তাকে সরানো নিয়ে শুরু হয় জল্পনা। জো বাইডেনের জায়গায় কমলা হ্যারিসকে প্রার্থী করা হবে কিনা, এমন আলোচনা চলছে! যদি তাই হয়, তাহলে জী কমলা হ্যারিস পারবেন নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হারাতে।
এনডিটিভি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বাকি মাত্র চার মাস। এই সময়ে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী জো বাইডেনের ওপর চাপ ক্রমাগত বাড়ছে। প্রেসিডেন্সিয়াল ডিবেটে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন। যদিও নির্বাচনে লড়ার বিষয়ে যথেষ্ট আশাবাদী জো বাইডেন।
কিন্তু পরবর্তীকালে যদি তাকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে হয় তাহলে সেক্ষেত্রে তার জায়গায় প্রার্থী হিসেবে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে রয়েছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। কমলা হ্যারিস অবশ্য তার সাড়ে তিন বছরের হোয়াইট হাউসের কার্যকালে খুব একটা বেশি সাফল্য দেখাতে পারেননি। তবে গত বছরের মতো এবারও গর্ভপাতের অধিকারের বিষয়ে জোরালো অবস্থানের পর তরুণ ভোটারদের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে।
কমলা হ্যারিস কী জো বাইডেনের চেয়ে যোগ্য প্রার্থী? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি সমীক্ষা করা হয়েছে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে জো বাইডেনের চেয়ে কমলা হ্যারিস ভালো ফল করতে পারবেন। কিন্তু তাকে যথেষ্ট শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হবে।
২৭ জুন রাতে প্রেসিডেন্সিয়াল ডিবেটে জো বাইডেনের দুর্বল পারফরম্যান্সের পর তাকে নিয়ে শুরু হয় সমালোচনা। ২ জুলাই সিএনএন এর একটি সমীক্ষায় দেখা যায়, ৪৩ শতাংশ ভোটার বাইডেনের পক্ষে থাকলেও ট্রাম্পের পক্ষে সমর্থন করেছেন ৪৯ শতাংশ ভোটার। কিন্তু পরে প্রার্থী হিসেবে কমলা হ্যারিসের নাম আনা হলে দেখা গেছে, দল নিরপেক্ষ ভোটারদের ৪৩ শতাংশ কমলা হ্যারিসকে এবং ৪০ শতাংশ ভোটার ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন করেছেন। এছাড়া মধ্যপন্থী ভোটাররা কমলা হ্যারিসকে ৫১ শতাংশ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ৩৯ শতাংশ সমর্থন করেছেন।
গত সপ্তাহে করা একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, কমলা হ্যারিসকে সমর্থন করেছেন ৪২ শতাংশ ভোটার এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন জানিয়েছেন ৪৩ শতাংশ ভোটার। পোলিং আউটলেট ফাইভ থার্টি এইট বলেছে, ৩৭.১ শতাংশ ভোটার কমলা হ্যারিসকে সমর্থন করেছেন এবং বাইডেনকে সমর্থন করছেন ৩৬.৯ শতাংশ।
প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কের পর বাইডেনের প্রচারণা টিমের অভ্যন্তরীণ সমীক্ষাও বলছে, ট্রাম্পকে হারানোর ব্যাপারে বাইডেনের থেকে কমলা হ্যারিসের সম্ভাবনা বেশি। যদিও এখনও পর্যন্ত নির্বাচনি লড়াইয়ে থাকার ব্যাপারে অনড় রয়েছেন জো বাইডেন।
শীর্ষ ডেমোক্র্যাটরা বলছেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উত্তরসূরি হবেন যদি বাইডেন ক্রমবর্ধমান চাপের কাছে নত হন এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী হিসেবে সরে যান। ব্ল্যাক ভোটার আউটরিচ গ্রুপ ব্ল্যাকপ্যাকের নির্বাহী পরিচালক অ্যাড্রিয়েন শ্রপশায়ার বলেন, কমলা হ্যারিস ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।









