মেয়েদের ক্রিকেটে গুরুত্ব বাড়াতে অন্যরকম উদ্যোগ নিয়েছে আইসিসি। ২০২৫ সাল থেকে মেয়েদের আসন্ন আইসিসি ইভেন্টগুলোতে আলাদ স্পন্সর থাকার কথা জানিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। মূলত ছেলেদের ক্রিকেট থেকে মেয়েদের ক্রিকেট আলাদা করার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত আইসিসির।
২০২৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ থেকে কার্যকর হবে এই উদ্যোগ। ২০২৬ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ ও ২০২৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও একই নীতি কার্যকর হবে। মেয়েদের ক্রিকেটের বিস্তার ঘটাতে ইতিমধ্যে ইউনিলিভারের সাথে চুক্তিও করেছে আইসিসি।
আইসিসির বাণিজ্যিক কর্মকর্তা অনুরাগ দহিয়া বিষয়টি জানিয়েছেন। বলেছেন, ‘প্রথমবারের মতো আমরা মেয়েদের ক্রিকেট ইভেন্টগুলোর জন্য বিশেষ বাণিজ্যিক সুযোগ প্রস্তাব করছি এবং আমরা এই অংশীদারিত্বকে মহিলা ক্রিকেটের স্বতন্ত্র মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিহ্ন হিসেবে দেখছি। এটি প্রমাণ করে যে, মেয়েদের ক্রিকেট আর পুরুষদের খেলার সাথে যুক্ত কোনো অতিরিক্ত বা ফ্রি-বি নয়, এটি একটি স্বতন্ত্র, উচ্চ সম্ভাবনাময় বাণিজ্যিক বিষয় হতে পারে।’
নারী ক্রিকেটের প্রতি গত কয়েক বছরে বৃদ্ধি পাওয়া আগ্রহকে এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন অনুরাগ দহিয়া। বলেছেন, ‘আমরা মাঠে এবং সম্প্রচার ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আগ্রহের দ্রুত বৃদ্ধি দেখতে পাচ্ছি। গত কয়েক বছরে আমরা রেকর্ড সংখ্যক দর্শক পেয়েছি।’
২০২৩ সালের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে ১৫,৯৩৫ জন দর্শক উপস্থিত ছিল। যা মেয়েদের ক্রিকেটে একটি গ্রুপ ম্যাচে সর্বোচ্চ উপস্থিতি। এছাড়া, ফাইনাল ছিল হাউজফুল। যা পরপর তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে হয়েছে।
২০২৬ সাল থেকে, টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ১২টি দল অংশগ্রহণ করবে, যা ২০১৬ সাল থেকে ১০টি দলের সংখ্যা ছিল। ২০২৭ সাল থেকে টি-টুয়েন্টি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি চালু হবে মেয়েদের জন্য, যা প্রতিটি বছর গড়াবে। ইভেন্টগুলোর বিস্তার গতিশীলতা বাড়িয়েছে বলে জানান দাহিয়া।
বলেন, ‘ইভেন্টগুলোর বিস্তার আমাদের গতিশীলতা বাড়িয়েছে। আমাদের ক্যালেন্ডারে নতুন ইভেন্ট যেমন অনূর্ধ্ব-১৯ নারী টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ, নারী চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, এবং পুরনো ইভেন্টগুলোতে আরও দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে। এর ফলে খেলোয়াড়দের জন্য এবং আমাদের দর্শকদের জন্য আরও অনেক সুযোগ তৈরি হয়েছে।’
‘মেয়েদের ক্রিকেটের নিজস্ব পরিচিতি, তার নিজস্ব গতিবিধি, এবং নিজস্ব দর্শক ও ভক্ত রয়েছে। পাশাপাশি ছেলেদের খেলার দর্শকদের কাছ থেকেও আগ্রহ পাচ্ছে, যারা অনেক সময় মহিলা ক্রিকেটে তাদের আগ্রহ স্থানান্তরিত করেছে। আমরা খুব ভাগ্যবান যে, মেয়েদের ক্রিকেটকে একটি নতুন দর্শক শ্রেণীর কাছে পরিচিত করতে হচ্ছে না। ছেলেদের ক্রিকেটের ভক্তরাও মেয়েদের ক্রিকেটে আগ্রহী।’









