রাওয়ালপিন্ডিতে বিপর্যয়ে পড়া বাংলাদেশের হাল ধরে সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন উইকেটকিপার-ব্যাটার লিটন দাস। তার ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি। যার সুবাদে ঘুরে দাঁড়িয়ে ভালো জবাব দিচ্ছে লাল-সবুজের দল। সম্ভাবনা জাগিয়েও অবশ্য সেঞ্চুরি ছুঁতে পারেননি স্পিন-অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। লিটন-মিরাজের সপ্তম উইকেট জুটি ভাঙে ১৬৫ রানে যেয়ে।
ডানহাতি ২৯ বর্ষী তারকা সেঞ্চুরির পথে ১১ চার এবং ২ ছক্কা মেরেছেন, খেলেছেন ১৭১ বল। ক্যারিয়ারের ১৮তম ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে পরিণত করলেন তিনি। পাকিস্তানের মাটিতে এটি প্রথম হলেও দেশটির বিপক্ষে লিটনের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। প্রথমটি ছিল ২০২১ সালে, চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৬৫ ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ২১৭ রান তুলেছে বাংলাদেশ। ১৭২ বলে ১০৪ রানে লিটন এবং ২৭ বলে ২ রানে হাসান মাহমুদ অপরাজিত আছেন।
ডানহাতি অলরাউন্ডার মিরাজ ১২৪ বলে ৭৮ রানে খুররাম শেহজাদের হাতে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরে গেছেন। তার ইনিংসে ১২ চার এবং এক ছক্কার মার রয়েছে। আউট হওয়ার আগে দ্বিতীয়বার একই টেস্টে ৫ উইকেট এবং ফিফটির কীর্তি গড়েছেন ২৬ বর্ষী তারকা।
সকালে ২৬ রানের মধ্যে ৬ উইকেট পড়ার পর, আটে ব্যাটিংয়ে নেমে ফিফটির ইনিংস খেলা বিশ্বের চতুর্থ ব্যাটার মিরাজ। বাকি তিন ইনিংসে সর্বোচ্চ রান ছিল ৭০, সেটা ছাড়িয়ে মিরাজের ইনিংসটি সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েছে। টানা তৃতীয় ইনিংসে আট নম্বরে নেমে ফিফটির দেখা পেলেন তিনি।
পঞ্চাশের আগে ৬ উইকেট পড়ার পর সপ্তম উইকেট জুটিতে পঞ্চাশের বেশি রান পাওয়ার ইনিংস বাংলাদেশের জন্য এটি দ্বিতীয়বার। ২০০৮ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে ৪৪ রানে ষষ্ঠ উইকেট পড়ার পর ৭৮ রান যোগ করেছিলেন সাকিব আল হাসান ও মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা।
রোববার রাওয়ালপিন্ডিতে দ্বিতীয় টেস্টে তৃতীয় দিনের শুরুতে ব্যাটিংয়ে ধস নামে বাংলাদেশের। সকালে বোর্ডে ১৬ রান যোগ করতেই ৬ উইকেট হারিয়ে বসে টিম টাইগার্স। আগেরদিন বিনা উইকেটে বাংলাদেশ করেছিল ১০ রান।
একে একে সাজঘরে ফেরেন জাকির হাসান (১), সাদমান ইসলাম (১০), নাজমুল হোসেন শান্ত (৪), মুমিনুল হক (১), মুশফিকুর রহিম (৩) ও সাকিব আল হাসান (২) রান করে।
বাংলাদেশের সর্বনিম্ন রানে অলআউটের রেকর্ড ঘাঁটাঘাঁটি শুরুর পর লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজের প্রতিরোধ গড়েন। সেশনের বাকিটুকু আগলে রেখে অবিচ্ছিন্ন ৪৯ রানের জুটি গড়ে লাঞ্চ বিরতিতে যান তারা। ফলো-অনে পড়ার শঙ্কাও অনেকটা কেটে যায়। বিরতি কাটিয়ে ফিরে একই গতিতে ছোটাচ্ছিলেন রানচাকা। যে জুটি দেড়শ পেরিয়ে থামে।
খুররম শেহজাদ একাই নিয়েছেন ৬ উইকেট। অপর দুটি উইকেট নিয়েছেন মীর হামজা।
বৃষ্টির কারণে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের প্রথমদিন টসই হয়নি। দ্বিতীয় দিনে টসে হেরে পাকিস্তান ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ইনিংসে আড়াইশ পেরোয়, অলআউট হয় ২৭৪ রানে। সিরিজে ১-০তে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ।









