গেল বছর কোটা সংস্কার আন্দোলনের শুরু থেকেই সোচ্চার ছিলেন দেশের শোবিজ অঙ্গনের একাধিক তারকা। শুধু অনলাইনেই নয়, একপর্যায়ে সরাসরি রাজপথেও অংশ নিতে দেখা গেছে তাদের, বিশেষ করে সরকার পতনের একদফা দাবিতে। এই আন্দোলনের অগ্রভাগে ছিলেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন।
জুলাই-গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তিকে কেন্দ্র করে প্রতিনিয়ত নানা স্মৃতি তুলে ধরছেন আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত অনেকেই। সেই ধারাবাহিকতায় বাঁধন সম্প্রতি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে ২০২৪ সালের ৩ আগস্টের একটি ঘটনাকে ‘একটি স্মরণীয় মুহূর্ত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
বাঁধন লিখেছেন, সেদিন তিনি শাহবাগ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় দেখেন— পুলিশ ছাত্রছাত্রীদের শহীদ মিনারে যেতে দিচ্ছে না। বিষয়টি দেখে হতাশ হয়ে পড়লেও তিনি নিজে চুপচাপ চলে যাননি। বরং সেখানে দাঁড়িয়ে ছাত্রদের যাতায়াতের পথ করে দেন এবং নীরবে তাদের পাশে দাঁড়ান।
বিষয়টি বাঁধন লিখেন এভাবে,“৩ আগস্ট ২০২৪, শাহবাগ দিয়ে হাঁটার সময় আমি একটি অস্বস্তিকর দৃশ্য দেখলাম—পুলিশ ছাত্রছাত্রীদের থামিয়ে দিচ্ছে, তাদের শহীদ মিনারের দিকে যেতে দিচ্ছে না। বিষয়টি দেখে আমি ভীষণ হতাশ বোধ করলাম। চুপচাপ হেঁটে চলে যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। তাই আমি সেখানে দাঁড়িয়ে গেলাম, ছাত্রদের যাওয়ার পথ করে দিলাম, নীরবে তাদের পাশে দাঁড়ালাম। পুলিশ অফিসাররা ঠিক আমার সামনে ছিল, কিন্তু আমি যতক্ষণ ছিলাম, তারা কিছু বলেনি।”
পরে তার সহকর্মী ফারিহা শামস সেঁউতি এসে তার পাশে দাঁড়ান। বাঁধন লিখেন, এরপর দেখা হয় রাজীব ভাইয়ের সঙ্গে। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বাঁধনকে বলেন, ‘তোমাকে যদি গ্রেপ্তার করে?’ পরে তাকে শহীদ মিনারের দিকে নিয়ে যান।
ঘটনার বর্ণনায় বাঁধন বলেন, “আমি রাগান্বিত ছিলাম, হতাশ ছিলাম। কিন্তু আমার ভিতরে কিছু একটা ছিল, যা আমাকে সরতে দেয়নি। এত পুলিশ থাকা সত্ত্বেও, তারা আমাকে সরাতে পারেনি—কারণ আমি ছাত্রদের জন্য দাঁড়িয়ে ছিলাম।”
একেবারে শেষে তিনি লেখেন, “আমি জানি না সেই সাহসটা কোথা থেকে এসেছিল, কিন্তু সেটা ছিল। এবং আমি দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে ছিলাম।”









