ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ এর নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার শহীদ ফেলানীর মা জাহানারা বেগম বলেছেন, ১৪ বছরেও আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার পাইনি। ফেলানী খুনের বিচার হলে সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধ হবে। সীমান্তে আর কোন মায়ের বুক খালি হোক- সেটি আমি চাই না। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই।
সম্প্রতি ফেলানীর পরিবারের সাথে ইফতার ও ঈদ উপহার প্রদান করতে গণমাধ্যম বিষয়ক সংগঠন ‘মিডিয়া মনিটর’ এর প্রতিনিধি দল কুড়িগ্রামে তাদের বাড়িতে যায়। এসময় আলাপচারিতায় একথা জানান ফেলানীর মা জাহানারা বেগম।
জাহানারা বেগম বলেন, ১৪ বছর হলো আমার বুকের ধন হারিয়েছি। সেদিন আমি নিজ হাতে মেয়েকে সাজিয়ে দিয়েছিলাম। বাড়িতে আসলে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল আমার মেয়ের। কিন্তু সেটি আর হলো না। মেয়েকে ফেরত পেলাম না। চিরদিনের জন্য আমার মেয়েকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে বিএসএফ। আমার মেয়েটাকে অনেক কষ্ট দিয়ে মেরেছে। কিন্তু এতবছর হয়ে গেলেও আমি ন্যায়বিচার পাইনি।
সেদিনের স্মৃতিচারণ করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ফেলানীর মা বলেন, আমি সেসময় ভারতে ছিলাম। মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার জন্য বাড়িতে আনা হচ্ছিল। তবে তাকে ছাড়তে আমার মন চাইছিল না, বলেছিলামও। কিন্তু মেয়ে আমাকে বুঝিয়ে বলল, তুমি এমনিতেই চিন্তা করতেছ। কিছু হবে না। শুভকাজের উদ্দেশ্যে আসায় আমি আর বেশি কিছু বলিনি। সেই যে আমি মেয়েকে সাজিয়ে দিলাম, আর আমার বুকে পেলাম না।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ভারতের প্রতি নতজানু নীতির কারণে বিচার পাননি জানিয়ে ফেলানীর মা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ইচ্ছা করেই এই হত্যাকাণ্ডের বিচার করেনি। ১৪ বছর কম সময় নয়। সরকার চাইলে আরও অনেক আগেই বিচার সম্ভব ছিল। এখন নতুন সরকার এসেছে। ফেলানী হত্যকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার জন্য তাদের কাছে অনুরোধ করছি। আমার মেয়ের হত্যার বিচার হলে সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধ হবে। খুনি দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি পেলে আর কেউ অন্যায়ভাবে কোন মায়ের বুক খালি করার সাহস পাবে না।
জাহানারা বেগম বলেন, বিজিবি আমাদের পরিবারের পাশে শুরু থেকেই ছিল। ফেলানীর বাবাকে একটি দোকান করে দিয়েছিল। আমাদের অনেক কঠিন সময় গিয়েছে। ছেলে-মেয়েদের অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করিয়েছি। এখন সরকার যেন আমার ছেলে-মেয়েদেরকে যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরির ব্যবস্থা করে দেয়, সেই অনুরোধ করছি।
ফেলানীর পরিবারের সাথে ইফতার ও ঈদ উপহার প্রদান অনুষ্ঠানে গণমাধ্যম বিষয়ক সংগঠন মিডিয়া মনিটর এর প্রধান সমন্বয়ক ও ইয়ুথ জার্নালিস্ট কমিউনিটির সভাপতি আহসান কামরুল, মিডিয়া মনিটরের সমন্বয়ক নাজমুল হাসান, বিজিবির মিডিয়া কনসালটেন্ট সাঈফ ইবনে রফিক, লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের (১৫ বিজিবি) সহকারী পরিচালক মো. মিজানুর রহমানসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বিজিবি মহাপরিচালকের নির্দেশনায় লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল শাহ্ মো. শাকিল আলম ফেলানীর বাবার দোকানে অর্ধলক্ষাধিক টাকার মালামাল কিনে দেন। বিজিবির উদ্যোগে এ দোকানটি করে দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ফেলানীর বাবা মো. নুরুল ইসলাম।









