হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) এর কার্যনির্বাহী কমিটি বাতিল করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট।
প্রশাসক নিয়োগ অবৈধ প্রশ্নে জারি করা রুল যথাযথ (অ্যাবসোলুট) ঘোষণা করে রোববার বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি শিকদার মো. মাহমুদুর রাজীর হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় দেন। আজকের এই রায়ের ফলে পূর্বের নির্বাচিত কমিটিই দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানান হাবের পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
গত ১৫ অক্টোবর ‘বৈষম্যবিরোধী হজ এজেন্সি’র মালিক ও অপর কয়েকটি এজেন্সির মালিকের আবেদনের প্রেক্ষিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক অফিস আদেশে হাব -এ প্রশাসক নিয়োগ করে। এসংক্রান্ত অফিস আদেশে বলা হয়, বাণিজ্য সংগঠন আইন, ২০২২-এর ১৭ ধারা অনুযায়ী সংগঠনটির বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটি বাতিল করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ দাউদুল ইসলামকে হাবের প্রশাসক নিয়োগ করা হলো। তাকে ১২০ দিনের মধ্যে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত কমিটির নিকট দায়িত্ব হস্তান্তর করে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে বলা হয়। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করে হাব। সে রিটের শুনানি নিয়ে প্রশাসক নিয়োগের আদেশে স্ট্যাটাসকো দিয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। তবে হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী হজ এজেন্সির মালিক আক্তার উজ্জামান আপিল বিভাগে আবেদন করেন। এরই মধ্যে সাধারণ সভার তারিখ ঘোষণা করে হাব। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে সম্পূরক আবেদন করে বৈষম্যবিরোধী হজ এজেন্সি। সে আবেদনের শুনানি নিয়ে হাবের সাধারণ সভা স্থগিত করে বিষয়টি আপিল বিভাগের পূর্নাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারণ করে চেম্বার আদালত। একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বিভাগ প্রশাসক নিয়োগে হাইকোর্টের “স্ট্যাটাসকো’র আদেশটি স্থগিত করে রুল নিষ্পত্তির আদেশ দেন।
আপিল বিভাগে বৈষম্যবিরোধী হজ এজেন্সির পক্ষে শুনানিতে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী রূহুল কুদ্দুস কাজল, ড. শাহদীন মালিক, ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান, ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন। অন্যদিকে, হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)-এর পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো: আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।









