রাতের ঘুম ভেঙে তাহাজ্জুদ পড়ার অভ্যাস গড়বেন যেভাবে

ছবি: সংগৃহীত
তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়ের জন্য রাতের শেষভাগে ঘুম থেকে ওঠা প্রয়োজন। কিন্তু গভীর ঘুম, অনিয়মিত ঘুমের সময় কিংবা অতিরিক্ত রাত জাগার কারণে অনেকের পক্ষেই নিয়মিত এ সময়ে জেগে ওঠা কঠিন হয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে শুধু অ্যালার্মের ওপর নির্ভর না করে ঘুমের স্বাস্থ্যকর অভ্যাস তৈরি করা বেশি কার্যকর হতে পারে।
নিয়মিত তাহাজ্জুদের জন্য ঘুমের সময়, ঘুমের পরিবেশ এবং রাতের রুটিনে কিছু পরিবর্তন আনা যেতে পারে।
১. নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস করুন
প্রতিদিন ঘুমানোর ও জাগার সময় যতটা সম্ভব কাছাকাছি রাখলে শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম একটি নিয়মিত ছন্দের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে। ফলে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও জাগার অভ্যাস তৈরি করা সহজ হয়।
তাহাজ্জুদের জন্য উঠতে চাইলে খুব রাত পর্যন্ত জেগে থাকার অভ্যাস কমিয়ে পর্যাপ্ত ঘুমের সুযোগ রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
২. পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন
প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতি রাতে অন্তত ৭ ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন। নিয়মিত ঘুমের ঘাটতি থাকলে ভোররাতে ঘুম থেকে ওঠা কঠিন হওয়ার পাশাপাশি দিনের কর্মক্ষমতাও প্রভাবিত হতে পারে।
তাই তাহাজ্জুদের জন্য উঠতে গিয়ে নিয়মিত ঘুম কমিয়ে ফেলা উচিত নয়। বরং রাতের রুটিন এমনভাবে সাজানো ভালো, যাতে পর্যাপ্ত ঘুমও হয় এবং ইবাদতের জন্য ওঠাও সম্ভব হয়।
৩. ঘুমানোর আগে ক্যাফেইন ও ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন
কফি, চা বা অন্যান্য ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় ঘুমের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে রাতে এগুলো গ্রহণ করলে। একইভাবে ঘুমানোর কাছাকাছি সময়ে অতিরিক্ত ভারী খাবার অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।
তাই রাতে ঘুমানোর কয়েক ঘণ্টা আগে ক্যাফেইন গ্রহণ সীমিত করা এবং অতিরিক্ত ভারী খাবার এড়িয়ে চলা ঘুমের জন্য সহায়ক হতে পারে।
৪. ঘুমের আগে স্ক্রিন ব্যবহারে সংযম আনুন
ঘুমানোর আগে দীর্ঘ সময় মোবাইল, কম্পিউটার বা টেলিভিশনের মতো স্ক্রিন ব্যবহারের অভ্যাস ঘুমের সময় পিছিয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা বিনোদনমূলক কনটেন্টে দীর্ঘ সময় কাটালে নির্ধারিত সময়ে ঘুমাতে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
তাই ঘুমের আগে কিছুটা সময় স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা এবং শান্ত পরিবেশ তৈরি করা ভালো অভ্যাস হতে পারে।
৫. অ্যালার্ম এমন জায়গায় রাখুন, যাতে উঠে যেতে হয়
মোবাইল বা অ্যালার্ম ঘুমের ঠিক পাশে রাখলে ঘুমের মধ্যেই সেটি বন্ধ করে আবার ঘুমিয়ে পড়া সহজ। অ্যালার্ম কিছুটা দূরে রাখলে সেটি বন্ধ করতে বিছানা ছাড়তে হয়।
প্রয়োজনে একাধিক অ্যালার্ম ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে অ্যালার্মের পাশাপাশি নিয়মিত ঘুমের রুটিন তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ।
৬. ঘুম থেকে উঠে সঙ্গে সঙ্গে রুটিন শুরু করুন
অ্যালার্ম বন্ধ করার পর আবার বিছানায় শুয়ে পড়লে পুনরায় ঘুমিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই ঘুম থেকে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে উঠে অজু করে নামাজের প্রস্তুতি নেওয়া যেতে পারে।
আগেই জায়নামাজ ও প্রয়োজনীয় জিনিস প্রস্তুত করে রাখলে ঘুম থেকে ওঠার পর সিদ্ধান্ত নিতে বা প্রস্তুতি নিতে অতিরিক্ত সময়ও লাগবে না।
ধারাবাহিকতাই মূল বিষয়
তাহাজ্জুদের জন্য নিয়মিত জেগে ওঠার ক্ষেত্রে কোনো একটি কৌশল সবার জন্য সমানভাবে কাজ করবে এমন নিশ্চয়তা নেই। তবে পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ঘুমের সময়, রাতের স্ক্রিন ও ক্যাফেইন নিয়ন্ত্রণ এবং অ্যালার্মের সঠিক ব্যবহার ঘুম থেকে ওঠার রুটিন গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে।
ইবাদতের অভ্যাস তৈরির পাশাপাশি শরীরের প্রয়োজনীয় ঘুম নিশ্চিত করাও জরুরি। তাই তাহাজ্জুদের জন্য জাগার পরিকল্পনা এমন হওয়া উচিত, যাতে ইবাদতের সঙ্গে স্বাস্থ্যকর ঘুমের ভারসাম্যও বজায় থাকে।







