দুর্গাপূজা সামনে রেখে রপ্তানি অনুমতির প্রথম ১২ টন ইলিশ মাছ ভারতে প্রবেশ করেছে। আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে যশোরের বেনাপোল বন্দর দিয়ে ইলিশের প্রথম চালানটি ভারতে প্রবেশ করেছে।
বেনাপোল বন্দর সূত্রে জানা গেছে: ভারতের কলকাতার দুই আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান আর এস এন্টারপ্রাইজ ও আর জে এন্টারপ্রাইজের তিন ট্রাকে এ ইলিশ বেনাপোল থেকে ভারতের প্রেট্রাপোল বন্দরে পৌঁছেছে।
দেশের বাজারে ভালো মানের ১ কেজি বা তার থেকে ওজনের বেশি ইলিশের কেজি যখন ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা তখন কত দামে ভারত যাচ্ছে এসব ইলিশ।
বেনাপোল কাস্টমসের ডেপুটি কমিশনার অথেলো চৌধুরী জানান, রপ্তানিকারকরা ১০ মার্কিন ডলার মূল্যে প্রতি কেজি ইলিশ মাছ সরবরাহ করছে। বাংলাদেশি টাকায় যার মূল্য প্রায় ১,২০০ টাকা। এ পর্যন্ত ছয়টি প্রতিষ্ঠান ১৮ মেট্রিক টন ইলিশ ছাড়াতে তাদের কাগজপত্র বেনাপোল কাস্টমস হাউজে জমা দিয়েছে। মাছের চালানের কাগজপত্র সঠিক পাওয়ায় ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
দেশের বাজারে যখন ইলিশের দাম বাড়তি তখন ১২০০ টাকা কেজি দরে কিভাবে ইলিশ ভারতে যাচ্ছে? এমন প্রশ্নের জবাবে রপ্তানিকারকরা বলছেন: কেজি বা কেজির ওপরের ইলিশের দাম বেশি। কিন্তু আমরা যে ইলিশ পাঠাচ্ছি সেখানে সব কেজি বা কেজির ওপরের ইলিশ না। সেখানে ৬’শ-৮শ’ টাকা কেজির ইলিশও রয়েছে। তাই সব মিক্সড করার পর ১২০০ টাকায় ইলিশ পাঠানো সম্ভব হচ্ছে।
আসন্ন দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রথমে ভারতে তিন হাজার টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তা থেকে সরে এসে শেষ পর্যন্ত ২,৪২০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এ অনুমতি দেওয়া হয়েছে ৪৯টি প্রতিষ্ঠানকে। এর মধ্যে ৪৮টি প্রতিষ্ঠান ৫০ টন করে ২,৪০০ টন, আর একটি প্রতিষ্ঠান ২০ টন ইলিশ রপ্তানি করবে। এই অনুমতির মেয়াদ আগামী ১২ অক্টোবর পর্যন্ত।
যেসব প্রতিষ্ঠান ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন পেয়েছে, সেগুলো হলো- আরিফ সি ফুডস, জারা এন্টারপ্রাইজ, সততা ফিশ ফিড, এস এ আর এন্টারপ্রাইজ, নাহিয়ান এন্টারপ্রাইজ, তানিশা এন্টারপ্রাইজ, রুপালী সি ফুডস লিমিটেড, লাকি এন্টারপ্রাইজ, টাইগার ট্রেডিং, রিপা এন্টারপ্রাইজ, জেবিএস ফুড প্রোডাক্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, মাশফি অ্যান্ড ব্রাদার্স, মহিমা এন্টারপ্রাইজ, সেভেন স্টার ফিশ প্রসেসিং কোম্পানি লিমিটেড, রহমান ইমপেক্স, আসিফ ইমপেক্স, নোমান এন্টারপ্রাইজ, যমুনা অ্যাগ্রো ফিশারিজ, রুপালী ট্রেডিং করপোরেশন, সততা ফিশ, প্যাসিফিক সি ফুডস লিমিটেড, জেজে ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল, বিশ্বাস ইন্টারন্যাশনাল, ক্যাপিটাল এক্সপোর্ট ইমপোর্ট অ্যান্ড কোম্পানি, অর্পিতা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, সুমন ট্রেডার্স, সাজ্জাদ এন্টারপ্রাইজ, সততা ফিশ।
এছাচড়া রয়েছে: আঁচল এন্টারপ্রাইজ, ২ এইচ ইন্টারন্যাশনাল, এমএপি ইন্টারন্যাশনাল, সরদার এক্সপোর্ট অ্যান্ড ইমপোর্ট, ইউভা ট্রেডিং, ফারিয়া ইন্টারন্যাশনাল, আসফা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, স্ট্যান্ডার্ড ফুড করপোরেশন, জেএস এন্টারপ্রাইজ, পদ্মা অ্যাগ্রো ফিশারিজ, ন্যাশনাল অ্যাগ্রো ফিশারিজ, মেসার্স আহনাফ ট্রেডিং, নাফিজা এন্টারপ্রাইজ, ডিপ সি ফিশারিজ লিমিটেড, মাসুদ ফিশ প্রসেসিং, আরকে ট্রেডার্স, বৃষ্টি এন্টারপ্রাইজ, ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ ও লোকজ ফ্যাশন। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে লোকজ ফ্যাশন ২০ টন, আর বাকি সব কটি প্রতিষ্ঠান ৫০ টন করে ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন পেয়েছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আক্তার এ বছর ভারতে ইলিশ রপ্তান করা হবে না বলে জানালেও পরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তিন হাজার টন ইলিশ রপ্তানির সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর সেটি কমিয়ে ২,৪২০ মেট্রিক টন করা হয়।









