ভাড়া করা গাড়ি নিয়ে যাত্রী সেজে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী নির্বাচিত রুটের ১-২ কিলোমিটার পরপর যাত্রী নিত। এরপর নির্জন স্থানে গাড়ি থামিয়ে অস্ত্র ও চেতনানাশক ওষুধ ব্যবহার করে যাত্রীদের কাছে থাকে মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নিত মামা পার্টি।
মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) মাঝরাতে রাজধানীর শনিরআখড়া থেকে মামা পার্টির মূলহোতাসহ অজ্ঞান পার্টি চক্রের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১০। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- মো. রানা ওরফে মো. শাহীন ওরফে শাহীন রানা মো. মফিজুল ইসলাম ওরফে মো. ইসলাম ওরফে ইসলাম মিয়া মো. সাগর ওরফে হাবিবুর রহমান শেখ ওরফে মো. হাবিব, মো. ফারুক আহমদ ওরফে মো. ফারুক মিয়া ওরফে মো. ফারুক ও মো. আবুল কালাম।
সেসময় একটি হাইস গাড়ি ও একটি করোলা প্রাইভেটকার, একটি হাতকড়া, চেতনা নাশক ওষুধ (চার পাতার মোট ৪০টি), ২টি সুইচ গিয়ার চাকু, ২টি স্টিলের চাকু, একটি ক্ষুর, ৬টি পুরাতন টাচ মোবাইল ফোন, ৫টি পুরাতন বাটন মোবাইল ও নগদ- ১ হাজার ৬০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-১০ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দীন।
তিনি বলেন, গত বছরের ২৬ জুন ফরিদপুরের ভাংঙা এলাকায় মো. শাহিন রানা ও মফিজুল ইসলাম আসামিরা যাত্রী সেজে সাদ্দাম শেখ নামের একজন ইজিবাইক চালকের ইজিবাইকটি ভাড়া করে। তারা ইজিবাইকচালক সাদ্দামকে মারধর করে এবং একপর্যায় চেতনানাশক ওষুধ ব্যবহারের মাধ্যমে অচেতন করে একটি মেহগনি বাগানে তাকে অচেতন ও আহত অবস্থায় ফেলে রেখে ইজিবাইকটি ছিনতাই করে পালিয়ে যায়।ওইদিন আনুমানিক রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভুক্তভোগী সাদ্দাম ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এছাড়াও আসামিরা নিহতের পরিবারের কাছে ছিনতাইয়ের ইজিবাইকটি ফেরত দেওয়ার কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিকাশ নম্বরে ৩৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ করে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্তকালে মামা পার্টি চক্রটি সম্পর্কে জানা যায়। এই মামা পার্টির মূলহোতা শাহিন রানা ওরফে তজ্জম এবং এ পার্টির সক্রিয় সদস্য ১০ জন।
অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দীন বলেন, গ্রেপ্তার শাহিন রানা চক্রটির মূল পরিকল্পনাকারী এবং তার নেতৃত্বে চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, শরীয়তপুর, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস ভাড়া করে যাত্রীসেজে চেতনানাশক ওষুধ ব্যবহার করে ছিনতাই করে আসছিল। তাদের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রথমে তারা ছিনতাইয়ের জন্য উপযুক্ত ও নির্জন রুট বাছাই করতো। এক্ষেত্রে তারা রাত ৩টা থেকে সকাল ৭টার মধ্যে যেকোনো সময় এবং নির্জন রুটকে বেছে নিতো।
কখনও মফিজুলের প্রাইভেটকার ব্যবহার করতো আবার কখনও মফিজুলের মাধ্যমে অন্য কোনো প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস ভাড়া নিত। এরপর মফিজুল এসব গাড়ি চালাতো এবং শাহিন যাত্রীসেজে মফিজুলের পাশে বসে থাকতো। অন্যান্যরা তাদের পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী নির্বাচিত রুটের ১-২ কিলোমিটার পরপর যাত্রী বেশে অবস্থান করতো।
র্যাব-১০ অধিনায়ক বলেন, গ্রেপ্তার শাহিন রানা ওরফে তজ্জম মামা পার্টি চক্রটির দলনেতা। শাহিন ২০০০ সালে একটি চুরির মামলায় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে পাঁচ বছর কারাভোগ করেছিল।মফিজুল, সাগর, ফারুক ও আবুল প্রত্যেকেই পেশায় ড্রাইভার।তারা মলম পার্টি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত।তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি, ছিনতাই, হত্যাচেষ্টা ও ডাকাতিসহ ১৫টি মামলা রয়েছে।







