কর্মস্থলের উদ্দেশে সকালে বাসা থেকে বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সিনিয়রকে ফোন দিয়ে জানতে চাওয়া, ‘কেমন আছেন ভাই’। কাঁপা কাঁপা গলায় সিনিয়র ভাই উত্তর দিলেন, ‘ওরে ঠাণ্ডা রে! এই শীতে আর কেমন থাকি।’ তার উত্তরে বোঝা গেলো শীতের প্রকোপ!
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের কোথাও আজ বইছে না শৈত্যপ্রবাহ। তবে হিমেল বাতাস বাড়িয়ে দিচ্ছে শীতের তীব্রতা। সকাল থেকেই সূর্যের দেখা না পাওয়ায় তাপমাত্রা ক্রমেই কমছে। ঘন কুয়াশা যেন ঢেকে রেখেছে চারপাশ। শীতের তীব্রতায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
তবে দুই থেকে তিন দিনের মাঝে মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার শৈত্যপ্রবাহ দেশজুড়ে বইতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। এদিকে বুধবার (৮ জানুয়ারি) সকালে দেয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পেতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পেতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে দিবাভাগে শীতের অনুভূতি বৃদ্ধি পেতে পারে।
আবহাওয়া প্রেম থেকে জন্ম বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা বাংলাদেশ আবহাওয়া অবজারভেশন টিম (বিডাব্লিউওটি) এর। সংস্থাটি জানিয়েছে, আসন্ন শৈত্যপ্রবাহ কিছুটা শক্তিশালী (মৃদু থেকে মাঝারি) হতে পারে। এতে দেশের রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের (উত্তরাংশে) কিছু স্থানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা প্রায় ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যেতে পারে।
তবে দেশের বেশিরভাগ এলাকায় তাপমাত্রা মৃদু শৈত্যপ্রবাহ মাত্রা বা তার ওপরে (১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি) থাকতে পারে। কিন্ত এর স্থায়িত্বকাল প্রায় ৫ দিন হতে পারে। তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে ১৩ বা ১৪ তারিখ নাগাদ বেশিরভাগ এলাকায় শৈত্যপ্রবাহ সাময়িক বিদায় নিতে পারে। এরপর ছোট্ট বিরতি দিয়ে ১৬ থেকে ১৭ তারিখ নাগাদ পুনরায় শৈত্যপ্রবাহ শুরু হতে পারে এবং বেশ কিছুদিন চলতে পারে।
এদিকে কুয়াশার কারণে সড়ক ও নৌপথে চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বাস-ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহনগুলোকে দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। ফেরি চলাচলও বিঘ্নিত হচ্ছে, ফলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে দুর্ভোগ বাড়ছে। নিজের মোটরসাইকেলে করে কর্মস্থলে যাচ্ছেন কাজী শাহরিয়ার সনেট। বললেন, ঠাণ্ডা বাতাস বেশি সমস্যা করছে। হাত-পা যেন বরফ হয়ে যাচ্ছে। গাড়ি আস্তে আস্তে চালাচ্ছি। জোরে টানলে ঠাণ্ডা বেশি লাগে।
শীত নিবারণের জন্য অনেকে ভিড় জমিয়েছেন চা ও পিঠার দোকানগুলোতে। এসব দোকানে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মানুষের ভিড় দেখা যাচ্ছে। শহরের ফুটপাতে ছোট ছোট আগুন জ্বালিয়ে গরম হওয়ার চেষ্টাও করছে অনেকে। তবে খোলা আকাশের নিচে থাকা অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। বনানীতে সারারাত অফিস করে বাসায় ফিরছেন জুবায়ের মাহমুদ খান। ক্লান্তি আর শীত কাটতে চুমুক দিচ্ছেন চায়ের কাপে। বলেন, সারারাত অফিস করি, তার ওপরে এই ঠাণ্ডা। চা খেলে একটু আরাম লাগে। ফুটপাতে থাকা মানুষের কথা তুলে ধরে বললেন, আমরা তো তাও দিন পার করতে পারি চা খেয়ে, চাদর গায়ে দিয়ে। কিন্তু এরা এই শীতে কত কষ্টে থাকে, ভাবুন একবার।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, সর্বনিম্ন তাপমাত্রার দিক থেকে স্বাভাবিকের তুলনায় এবছর তাপমাত্রা বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙ্গার কোন সম্ভাবনা এবছর নেই। তবে চলতি মাসে ঠাণ্ডা বেশ খানিকটাই ভোগাবে।









