যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত রোববার নিজের মোটর শোভাযাত্রায় গলফ ক্লাবে যাচ্ছিলেন। এসময় রাস্তার ধারে ঘাসের ওপরে তাঁবুতে থাকা গৃহহীনদের দেখে বিরক্ত হন। পরদিনই তিনি ঘোষণা দেন, রাজধানীর পার্ক ও খোলা জায়গাগুলো থেকে দ্রুত গৃহহীনদের সরিয়ে দেওয়া হবে।
রোববার ১৭ আগস্ট ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প তার নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ চারটি ছবি পোস্ট করে লেখেন গৃহহীনদের তাৎক্ষণিকভাবে সরে যেতে হবে। ছবিগুলোর একটিতে দেখা যায়, মিসৌরির ৬৬ বছর বয়সী বিল থিওডি নামের এক ব্যক্তি। তিনি বছরের পর বছর ধরে এই স্থানে বসবাস করছেন এবং নির্মাণ কাজে কাজ করছেন।
বৃহস্পতিবার, মি. থিওডি এবং সেখানকার অন্যান্য বাসিন্দাদের জিনিসপত্র গুছিয়ে অবিলম্বে চলে যেতে বলা হয়। অনেককে সময় না দিয়েই তাৎক্ষণিকভাবে একটি বুলডোজার পাঠিয়ে তাদের তাঁবু এবং অন্যান্য জিনিসপত্র ভেঙে দেয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
থিওডি বলেন, তারা আমাকে বলে সব দ্রুত গুছিয়ে চলে যেতে নাহলে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, তারা আমাদের কথা শোনেনি। শুধু বলেছে, যাও, যাও, যাও, এটা অপমানজনক।
ডিসি স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের ডেপুটি মেয়র ওয়েন টার্নেজ বলেন, শহর কর্তৃপক্ষ এর আগেও রাজধানীজুড়ে ক্যাম্প সরিয়ে নিয়েছে। তিনি বলেন, এটি সাধারণত কমপক্ষে এক সপ্তাহের নোটিশে করা হয়, তবে ট্রাম্পের ঘোষণার পর প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক অভিযানে ১১ জনকে সেখান থেকে উচ্ছেদ করা হয়। শহরের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ডিসিতে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার ১৩৮ জন, যা গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম। গৃহহীনতা কমাতে কাজ করে এমন একটি সংস্থা কমিউনিটি পার্টনারশিপের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, প্রায় ৮০০ জন আশ্রয়হীন, এবং প্রায় ৪,৩০০ জনের কোন না কোন অস্থায়ী আবাসন রয়েছে।
উচ্ছেদের পর থিওডি সাময়িকভাবে ভার্জিনিয়ার একটি মোটেলে আশ্রয় পান, যেখানে অপরিচিত এক ব্যক্তি তার থাকার খরচ বহন করেছিলেন। তিনি বলেন, যদি সেই সাহায্য না পেতাম, তাহলে হয়তো সারাদিন রাস্তায় বসে থাকতে হতো।
অন্যদিকে ৬৫ বছর বয়সী জর্জ মরগান জানান, মাত্র দুই মাস আগে তিনি আর্থিক কারণে নিজের অ্যাপার্টমেন্ট ছাড়তে বাধ্য হন। এখন তিনিও মোটেলে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়েছেন।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, গৃহহীনদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র ও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার প্রস্তাব করা হবে। যদি তারা তা প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে জরিমানা বা জেলের মুখোমুখি হতে হবে।। কিন্তু থিওডি পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন, মানুষকে জোর করে আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো যায় না। এগুলো খারাপ জায়গা।
গৃহহীনদের নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, আশ্রয়কেন্দ্রের ধারণক্ষমতা সীমিত, ফলে এই ধরনের হঠাৎ উচ্ছেদ মানবিক সংকট আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।









