তেজগাঁওয়ে ট্রেনে অগ্নিসংযোগে চার ব্যক্তির প্রাণহানির ঘটনায় জড়িতদের নিরাপত্তা বাহিনী খুঁজে বের করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।
বুধবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন: যারা অমানুষ, যারা জানোয়ার তারাই এসব ঘটনা ঘটাতে পারে। যারা এ কাণ্ড ঘটিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী তাদের খুঁজে বের করবে।
নাশকতার মধ্যে সুষ্ঠু নির্বাচন কী হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন: নির্বাচন অবশ্যই সুন্দরভাবে হবে। যারা নাশকতা করছে, জনগণ তাদের প্রতিহত করবে। নিরাপত্তা বাহিনী তো রয়েছেই। তারা দক্ষ। নাশকতার শেকড় খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেবে। গাজীপুরে যারা রেললাইন উপড়ে ফেলেছে তাদের শনাক্ত করে ধরা হয়েছে। ওই এলাকার যুবদলের নেতা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। সবাই জানেন। যতগুলো শনাক্ত করে ধরা হয়েছে, তারা হয় ছাত্রদল কিংবা যুবদল বা স্থানীয় বিএনপির কোনো নেতা।
তিনি বলেন: দেশের বাইরে থেকে তাদের ‘ধ্বংস করার’ নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে, তারা করছেও। বিএনপিতে যারা দেশকে ও দলকে ভালোবাসে, তারা দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছে। বিএনপি ভেঙে আরও দুটি নতুন দল তৈরি হয়েছে। বিএনপির অনেক নেতা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। তারা যখন নিজের দলকে গোছাতে ব্যর্থ তখন তারা সর্বশেষ হাতিয়ার হিসেবে মানুষ হত্যার চেষ্টা করছে।
এ ক্ষেত্রে সরকার কী ব্যবস্থা নেবে জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন: নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব একটি সুন্দর নির্বাচন করা। তারা সর্বাত্মক সেই চেষ্টা করছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তারা নিরাপত্তা বাহিনীকে সেই নির্দেশনা দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে যা করা উচিত, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাই করবে। আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী অনেক দক্ষ, তারা অনেক নির্বাচন করে, অনেক সহিংসতা মোকাবিলা করেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন: এ দেশের জনগণ যখন তাদের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে তখনই তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ক্রমাগত কর্মসূচি দিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করছে যাতে নির্বাচন না হয়। গত ২৮ অক্টোবরের পর তারা একের পর এক নাশকতা চালিয়ে যাচ্ছে। বাসে আগুন দিয়ে হেলপারসহ পুড়িয়ে এবার তারা রেল লাইন উপড়ে ফেলে দিচ্ছে।
আসাদুজ্জামান খান বলেন: তারা অব্যাহত নাশকতা চালিয়ে যাচ্ছে। ২০১৪ ও ২০১৫ সালেও তারা এমন নাশকতা করেছে। আগুন দিয়ে পুড়িয়েছে, সম্পদ ধ্বংস করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন। আর সরকার বদলানোরও একমাত্র উপায় জনগণের ম্যান্ডেট। যে কারণে নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করলে তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। ৪৩টির মধ্যে ২৯টি দল এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে।









