শনিবার ৭ অক্টোবর গাজা থেকে ইসরায়েলে কয়েক হাজার রকেট নিক্ষেপ করা হলে দেশটির একজন নাগরিক নিহত এবং আরও কয়েকজনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এর পরপরই ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ডে প্রবেশ করে হামাস বাহিনী।
এনডিটিভি জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাস ইসরায়েলে রকেট হামলার দায় স্বীকার করে বলেছে, তারা ৫ হাজারেরও বেশি রকেট নিক্ষেপ করেছে। হামাসের সামরিক শাখা ইজ্জেদিন আল-কাসাম ব্রিগেড এক বিবৃতিতে বলেছে, আমরা দখলদারিত্বের (ইসরায়েল) সমস্ত অপরাধ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। জবাবদিহি না করে তাদের তাণ্ডব চালানোর সময় শেষ হয়ে গেছে। আমরা সেখানে অপারেশন ঘোষণা করছি। আমরা ২০ মিনিটের হামলায় ৫ হাজারেরও বেশি রকেট নিক্ষেপ করেছি।
এইদিকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামাস ইসরায়েলে রকেটের একটি ব্যারেজ ছুড়েছে এবং হামাসের সদস্যরা একাধিক স্থান দিয়ে ইসরায়েলি ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশ করেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীএক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামাস এই ঘটনার পরিণতি ও দায়-দায়িত্ব ভোগ করবে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অটোমান সম্রাজ্যের পরাজয়ের পর, ব্রিটেন ফিলিস্তিনের নিয়ন্ত্রণ নেয়, যা তখন ইহুদি সংখ্যালঘু এবং আরব সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকা ছিল। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ব্রিটেনকে ফিলিস্তিনে একটি ইহুদি আবাসভূমি তৈরি করার দায়িত্ব দেয়, যা মুসলমানদের গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনাকে বাড়িয়ে তোলে।

১৯২০ থেকে ১৯৪০ দশকের মধ্যে ইউরোপ থেকে দলে দলে ইহুদীরা ফিলিস্তিনে যেতে শুরু করে এবং তাদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। ইউরোপে ইহুদী নিপীড়ন এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলারের ভয়ংকর ইহুদী নিধনযজ্ঞের পর সেখান থেকে পালিয়ে এরা নতুন এক মাতৃভূমি তৈরির স্বপ্ন দেখছিল। ফিলিস্তিনে তখন ইহুদী আর আরবদের মধ্যে শুরু হয় ব্যাপক সহিংসতা। একই সঙ্গে সহিংসতা বাড়ছিল ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধেও।
১৯৪৭ সালে জাতিসংঘে এক ভোটাভুটিতে ফিলিস্তিনকে দুই টুকরো করে পৃথক ইহুদী এবং আরব রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হয় যেখানে জেরুজালেম থাকবে একটি আন্তর্জাতিক নগরী হিসেবে। ইহুদী নেতারা এই প্রস্তাব মেনে নেন, কিন্তু আরব নেতারা তা প্রত্যাখ্যান করেন।
ব্রিটিশরা এই সমস্যার কোন সমাধান করতে ব্যর্থ হয়ে ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিন ছাড়ে এবং ইহুদী নেতারা এরপর ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়। বহু ফিলিস্তিনি এর প্রতিবাদ জানালে শুরু হয় যুদ্ধ। হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে তাদের ঘরবাড়ি ফেলে চলে যেতে বাধ্য করা হয়। ফিলিস্তিনিরা এই ঘটনাকে ‘আল নাকবা’ বা ‘মহা-বিপর্যয়’ বলে থাকে।
পরের বছর যুদ্ধবিরতির মধ্যদিয়ে যুদ্ধ শেষ হয়। ততদিনে ফিলিস্তিনের বেশিরভাগ অঞ্চল ইসরায়েলের দখলে। ১৯৬৭ সালে আরেকটি আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের পূর্ব জেরুজালেমসহ বেশ কিছু অঞ্চল দখল করে নেয়। ইসরায়েল এখন পুরো জেরুজালেম নগরীকেই তাদের রাজধানী ঘোষণা করে। অন্যদিকে ফিলিস্তিনিরা পূর্ব জেরুজালেমকে তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে চায়। জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ হাতে গোনা কয়েকটি দেশ।

গত ৫০ বছর ধরেই ইসরায়েল এসব দখলীকৃত জায়গায় ইহুদী বসতি স্থাপন করছে। ছয় লাখের বেশি ইহুদী এখন এসব এলাকায় থাকে। ফিলিস্তিনিরা বলছে, আন্তর্জাতিক আইনে এগুলো অবৈধ বসতি এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে অন্তরায়। তবে ইসরায়েল তা মনে করে না।
হামাস কারা?
ফিলিস্তিনের কট্টর ইসলামপন্থী সংগঠনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় সংগঠন হামাস। ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর ও গাজা থেকে ইসরায়েলি দখলদারির অবসানের দাবিতে ‘ইন্তিফাদা’ বা ফিলিস্তিনি গণজাগরণ শুরুর পর ১৯৮৭ সালে হামাস গঠিত হয়। সংগঠনটির সনদ অনুযায়ী তারা ইসরায়েলকে ধ্বংস করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। তাদের লক্ষ্য, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র হবে বর্তমান ইসরায়েল, গাজা ও পশ্চিম তীর নিয়ে গঠিত একক ইসলামি রাষ্ট্র।









