দরজায় কড়া নেড়েছে বৈশাখ। পুরোনোকে বিদায় জানিয়ে আগমন হয়েছে বাংলা নববর্ষ -১৪৩১ বঙ্গাব্দ। শোভাযাত্রা, মেলা, পান্তাভাত খাওয়া, হালখাতা খোলা ইত্যাদি বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করা হয়। আর এই বাংলা নববর্ষের ঐতিহ্যবাহী শুভেচ্ছা বাক্য হলো ‘শুভ নববর্ষ’।
১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দের ১০ই মার্চ বা ৯৯২ হিজরিতে বাংলা সন গণনা শুরু হয়। তবে এই গণনা পদ্ধতি কার্যকর করা হয় আকবরের সিংহাসন আরোহণের সময় (৫ নভেম্বর, ১৫৫৬) থেকে। প্রথমে এই সনের নাম ছিল ফসলি সন, পরে “বঙ্গাব্দ” বা বাংলা বর্ষ নামে পরিচিত হয়ে এসেছে। আকবরের সময়কাল থেকেই পহেলা বৈশাখ উদযাপন শুরু হয়।
অতীতে যদিও বাংলা নববর্ষের মূল উৎসব ছিল হালখাতা। এটি পুরোপুরিই একটি অর্থনৈতিক ব্যাপার। গ্রামে-গঞ্জে-নগরে ব্যবসায়ীরা নববর্ষের প্রারম্ভে তাঁদের পুরানো হিসাব-নিকাশ সম্পন্ন করে হিসাবের নতুন খাতা খুলতেন। এ উপলক্ষে তাঁরা নতুন-পুরাতন খদ্দেরদের আমন্ত্রণ জানিয়ে মিষ্টি বিতরণ করতেন এবং নতুনভাবে তাদের সঙ্গে ব্যবসায়িক যোগসূত্র স্থাপন করতেন।
চিরাচরিত এই উৎসবে বাঙালি এখনো ঠাঁই দিয়েছে তাদের অন্তরে। বর্তমানে নানা আয়োজনে মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলা বর্ষ উৎসব। গ্রাম-গঞ্জ থেকে শুরু করে শহরেও দেখা মিলছে বৈশাখী মেলা, র্যালি, আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান।
অন্ধকারের অপশক্তির বিপরীতে তারুণ্যের হৃদয়ে বাঙালির অসাম্প্রদায়িক মানবধর্ম আর মানবিকতার আলো জ্বালতে দেশজুড়ে সাংস্কৃতিক জাগরণের ডাক এসেছে এবারের বর্ষবরণ উৎসবে।
নববর্ষ শুরুর দিনটিতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। এবার ঈদ আর পহেলা বৈশাখের ছুটি পাশাপাশি পড়ায়, সারা দেশে উৎসবের আমেজ চলছে বাঙালির অন্তরে।
এই দিনটি স্মরনীয় করে রাখতে বাঙালি নারী পুরুষ তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে শাড়ি, পাঞ্জাবি, লুঙ্গি নিজেদের সাজায় নতুন সাজে।
জাতিসংঘের অঙ্গসংস্থা ইউনেস্কো ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩০শে নভেম্বর বাংলাদেশের মঙ্গল শোভাযাত্রাকে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।
বাংলাদেশের প্রস্তাব অনুমোদনক্রমে ইউনেস্কো লিখে, মঙ্গল শোভাযাত্রা হল জনসাধারণের একটি উৎসব যা ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখে (নববর্ষের দিনে) উদযাপন করা হয়, যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের দ্বারা আয়োজন করা হয়।
তবে বর্তমানে এই মঙ্গল শোভাযাত্রা শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে প্রতিটি বাঙালির অন্তরে।







