বহুল প্রতীক্ষিত জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। শুক্রবার বিকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
বিকেল সাড়ে চারটার দিকে অনুষ্ঠানস্থলে আসেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ–সভাপতি আলী রীয়াজ।
মঞ্চে নেতাদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকনসহ অনেককে দেখা গেছে।
এর আগে বেলা দেড়টার দিকে জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানকে ঘিরে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই পরিস্থিতি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন ‘জুলাই যোদ্ধারা’।
তাদেরকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে সরিয়ে দিতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। জবাবে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়েন। এতে কয়েকজন আহত হন। সংঘর্ষের মধ্যে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় অনুষ্ঠান উপলক্ষে তৈরি করা তাঁবু ও অন্যান্য সরঞ্জামে। প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, লাঠিচার্জ ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ।
পরে বেলা পৌনে ৩টার দিকে পুলিশ পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও নিরাপত্তা জোরদারে সংসদ ভবন এলাকায় সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিজেদের অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, আইনি সুরক্ষা এবং পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভে নামেন ‘জুলাই যোদ্ধারা’।
এদিকে, তিন দফা দাবি না মানলে জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দলটিকে অনুষ্ঠানে আনার চেষ্টা চালায় সরকার ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। তবে তাতে সফলতা মেলেনি। দলটির নেতারা শেষ পর্যন্ত নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকেন।
অনুষ্ঠান শুরুর আগে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ সাংবাদিকদের জানান, জুলাই বীর যোদ্ধা ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর অঙ্গীকারনামার পঞ্চম দফা সংশোধন করা হয়েছে। এতে জুলাই যোদ্ধাদের দাবির প্রতিফলন ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দিবেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। এরপর রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধি ও কমিশনের সদস্যরা সনদের অঙ্গীকারনামায় সই করবেন। সবশেষে সনদে স্বাক্ষর করবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি হবে।









