নব্বই দশকে আফ্রিকায় পাড়ি দিয়েছিলেন বাংলাদেশি পপশিল্পী জুয়েল। সেখানেই পরে বসতি গড়েন তিনি। সংগীত চর্চার বদৌলতে পরিচিত হয়ে উঠেছেন আফ্রিকার সংগীত অঙ্গনেও! গান করেছেন সেখানকার স্থানীয় শীর্ষ সংগীতশিল্পীদের সাথে।
আফ্রিকায় থাকলেও বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ভীষণ উদ্বিগ্ন ছিলেন এই শিল্পী। গানে গানে স্বৈরতন্ত্রের প্রতিবাদ করায় যেসব বাংলাদেশি শিল্পীদের উপর ধরপাকড় চালানো হয়, তাদের মুক্তি চেয়ে কথাও বলেন জুয়েল।
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে জুয়েল বলেন,“আসলে আমি ছাত্র সমন্বয়কারীদের অভিনন্দন জানাতে চাই এবং পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে চাই।”
জনতার জন্য এসময় একটি ‘মুক্ত মঞ্চ’ প্রতিষ্ঠার দাবী জানান জুয়েল। তার ভাষ্য,“এটা নিউ ইয়র্ক টাইম স্কয়ার বা চায়না তিয়ানাম স্কয়ারের মতো একটা মুক্ত মঞ্চ চাই। যেখানে যে কোনো নাগরিক গিয়ে স্বাধীনভাবে বক্তৃতা করতে পারে। এটা দুর্নীতির বিরুদ্ধে হতে পারে। এটা সরকারের বিরুদ্ধেও হতে পারে। এটা পুলিশের বিরুদ্ধে হতে পারে। দেশে ঘটছে এমন কোন অদ্ভুত ঘটনার বিরুদ্ধেও হতে পারে।”
গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের আহ্বান জানিয়ে শিল্পী জুয়েল বলেন,“মিডিয়া, সংবাদপত্র এবং রেডিও টিভিসহ সব মাধ্যম মুক্ত স্বাধীনচেতা হওয়া উচিত। পাশাপাশি সামাজিক নেটওয়ার্ক নিরপেক্ষ না হলে মিডিয়া কেবল সরকারের খবরই প্রকাশ করবে এবং বিরোধীরা সরকারের সমালোচনা করতে পারবে না। প্রকৃত গণতান্ত্রিক নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার দাবী জানাই।”
বর্তমান সময়কে ‘সত্য কথা বলার উপযুক্ত সময়’ বলে মনে করেন জুয়েল। নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি বলেন,“বিগত দিনগুলোতে আমরা পুলিশকে সব অপরাধের শিকড় হিসেবে জেনে এসেছি। ১৯৭১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত, এটা বলা দুঃখজনক কিন্তু আমাদের সত্য কথা বলতে হবে। এটাই সত্য কথা বলার সঠিক সময়। আমাদের দেশ পরিবর্তন করতে এটাই সঠিক পরামর্শ দেয়ার সময়। পুলিশ যদি দুর্নীতিগ্রস্ত না হয় তবে বেশিরভাগ অপরাধ কমে যাবে। অল্প সময়ের মধ্যে এটি হয়তো হবে না, কিন্তু অপরাধকে একটু একটু করে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তার জন্য প্রথমেই পুলিশকে দুর্নীতি মুক্ত করতে হবে।”
তিনি বলেন,“আমরা দেখেছি যে, পুলিশ অপরাধ করলে পুলিশ অফিসারকে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় স্থানান্তর করা হয়। এটা স্থায়ী সমাধান নয়। কারণ অপরাধ হল ভাইরাসের মতো যদি ভাইরাস আপনার শরীর এবং রক্তে আক্রমণ করে তবে আপনার রক্ত থেকে পরিষ্কার করা কঠিন। যদি পুলিশ অপরাধ করে তবে পুলিশকে বরখাস্ত করা উচিত এবং আইনের মুখোমুখি করা উচিত। আমি পুলিশের অপরাধ সম্পর্কে বিচার ব্যবস্থা জানি না। এটিকে সংস্কার করা উচিত। আমাদের সকলের উচিত বাংলাদেশে পরিবর্তনে পরামর্শ দেওয়া, যাতে আমাদের নতুন ভবিষ্যত প্রজন্ম আমাদের মতো কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের মতো কষ্ট না পায়। প্রতিটি এলাকাকে কমিউনিটি পুলিশিং ফোরাম করা উচিত। এই কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামটি রাজনৈতিক হওয়া উচিত নয়।”
“এতে ওই এলাকার সব ধরনের মানুষ অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। রিকশাচালক থেকে শুরু করে কবি বুদ্ধিজীবী ব্যবসায়ী এবং ছাত্র। মানে সব ধরনের লোককে ওই কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামে যুক্ত করা উচিত। এটা ৫০ থেকে ১০০ জন হতে পারে। এটা নির্ভর করে এলাকার আয়তনের উপর।”- বলছিলেন জুয়েল।
এসময় মাদক নিয়েও কথা বলেন এই হিপহপ শিল্পী। বলেন, আমাদের দেশে মাদক চাই না। এটা নিয়ে সোচ্চার হওয়ার সময় এখন। আমি বুঝতে পারি এটা বন্ধ করা খুবই কঠিন কিন্তু আমরা সবাই মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই করব। আমাদের দেশে ৪র্থ মাদক যুদ্ধ হোক। আমরা মাদক মুক্ত বাংলাদেশ চাই মাদকের বিরুদ্ধে আইন কঠোর হওয়া উচিত । মাদকের বিরুদ্ধে সমাজকে সংগ্রাম করতে হবে ছাত্রছাত্রী এবং সকল প্রকার মানুষকে এক হয়ে মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। কারণ মাদকের ছোবলে আক্রান্ত হচ্ছে আমাদের নিজেদেরই আত্মীয়স্বজন। এটা হতে দেয়া যাবে না।
“আমি অন্তর্বর্তী সরকারকে পরামর্শ দিতে চাই যে বাজারের মূল্য স্থিতিশীল করা উচিত। বিচারবহির্ভূত হত্যা দেখতে চাই না। আমার প্রশ্ন বাংলাদেশে কি কোনো আদালত নেই? কীসের জন্য আদালত? এসব কিছু ঠিকঠাক সংস্কার চাই।”









