ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের ধরতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির ১৮তম সভা শেষে শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সাম্প্রতিক ঘটনাবলির বিস্তারিত তুলে ধরতে গিয়ে এ তথ্য জানান।
উপদেষ্টা বলেন, ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের ধরতে সবোর্চ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ফয়সাল অবৈধ পথে বিদেশ গিয়েছে কিনা জানা নেই।
এ ঘটনায় এরইমধ্যে ১০ জনকে যৌথ বাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা ফয়সাল করিমের স্ত্রী, মা, বাবা, শ্যালকসহ একাধিক সহযোগী রয়েছে। একইসঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, ২টি বিদেশি পিস্তল, ২টি ম্যাগজিন, ৪১ রাউন্ড গোলাবারুদ ও ১টি খেলনা পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।’
সভায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সার্বিক নিরাপত্তা প্রস্তুতি, অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ–২ এর অগ্রগতি, শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও গ্রেপ্তার পরিস্থিতি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ নির্বাচন, বড়দিন ও থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে জড়িত এখন ঝুঁকিপূর্ণ এমন কয়েকজনের তালিকা করা হয়েছে। ২০ জনকে গানম্যান দেয়া হয়েছে।
প্রথম আলো-ডেইলি স্টারে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ১৭
তিনি আরও জানান, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার পত্রিকা অফিসে হামলার ঘটনায় ডিএমপি ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। পত্রিকা দুটির সম্পাদকদের নিরাপত্তায় গানম্যান দেয়া হয়েছে এবং বাসভবনে বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। ময়মনসিংহে পোশাক শ্রমিককে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায়ও ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তারেক রহমানের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আগামী ২৫ ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে আগমন উপলক্ষে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে পুলিশের প্রশিক্ষণের বড় অংশ এরইমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘সহিংসতা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও উসকানিমূলক তৎপরতার বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’
বড়দিনের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা প্রস্তুতি গ্রহণ
বড়দিন ও থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘বড়দিন ও থার্টি ফার্স্ট নাইটে কোনো ধরনের আতশবাজি করা যাবে না এবং রাস্তা অবরোধ করে কোনো অনুষ্ঠান আয়োজন করা নিষিদ্ধ থাকবে। প্রতিটি গির্জা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে। গুলশান, বনানীসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং ট্রাফিক স্বাভাবিক রাখতে ডিএমপি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।’









